বুধবার ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সিলেট আ.লীগের কমিটিতে যোগ-বিয়োগের খেলা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ২৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সিলেট আ.লীগের কমিটিতে যোগ-বিয়োগের খেলা

মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুটি কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের টেবিলে কমিটি দুটি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে।

 

প্রায় চার মাস আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব কেন্দে গেলে তা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বঞ্চিতরা প্রস্তাবিত কমিটিতে থাকা বিতর্কিতদের আমলনামা কেন্দ্রে পাঠান। স্বজনপ্রীতি, ত্যাগী ও যোগ্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগ করেন তারা। এ পরিপ্র্রেক্ষিতে কেন্দ্র সিলেটের দুটি প্রস্তাবিত কমিটি ছেঁকে ‘কালো তালিকা’ তৈরি করে। ৭৫ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটি থেকে জেলার ৯ জনকে ও মহানগরের ১৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের সঙ্গে গোপন আঁতাত ছাড়াও নিষ্ক্রিয়তা ও দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এমন অভিযোগের পর যোগ-বিয়োগের খেলা শুরু হয়। কেন তাদের কমিটিতে রাখা হবে-এ ব্যাপারে জবাব চেয়ে সিলেটের দায়িত্বশীলদের তলব করা হয় কেন্দ্রে। অভিযুক্তদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। অভিযুক্তদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় বেশ কয়েকজনকে সর্বশেষ প্রস্তাবিত কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব পাওয়ায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে কমিটিতে রাখা হয়। নতুন করে কয়েকজনের নাম যোগ করা হয়। দলীয় নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এমন তথ্য জানায়।

সিলেট আওয়ামী লীগের দুটি কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় কেন্দ্রে ঝুলে থাকায় দায়িত্বশীল ছাড়াও বঞ্চিতরা কেন্দ্রে জোর লবিংয়ে আছেন। কেন্দ্রের তলবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দায়িত্বশীলরা কয়েক দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। শুক্রবার তাদের দফায় দফায় ফোন করলেও অধিকাংশেরই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তারা উত্তর দেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় অবস্থান করা জেলা ও মহানগরের নেতারা তোপের মুখে আছেন। স্থানীয় বঞ্চিত নেতাদের চাপে পড়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। যাদের ফোন খোলা তারাও আতঙ্কে। গণমাধ্যম কর্মীদের ফোন এড়িয়ে তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। এদিকে, প্রস্তাবিত কমিটিতে বঞ্চিত করা হলেও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। নাম প্রকাশ না করে শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে কোনো বক্তব্য দেওয়া আÍঘাতী হবে। তবে যারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছেন তাদের মধ্যে জামায়াতের চর আছেন এটা এখন বলছি, আগামীতেও বলব। এসব ছদ্মবেশীই প্রায় সময় দলের ত্যাগীদের দূরে সরাতে চান।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অবমূল্যায়ন, বিতর্কিতদের স্থান প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়ে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ারের নেতৃত্বে বিকল্প একটি কমিটি জমা পড়ে কেন্দ্রে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রে সিলেট মহানগর কমিটির নেতাদের তলব করা হয়। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমার পর ৩১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানকে কেন্দ্রে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সিলেট বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ প্রস্তাবিত কমিটির বিভিন্ন সদস্যের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, এবার কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধান হয়েছে। জেলা ও মহানগরের দুটি কমিটিই চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জানান, কমিটি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের টেবিলে। দুই-এক দিনের মধ্যে কমিটির অনুমোদন ও ঘোষণার আশা করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান সভাপতি ও সাবেক যুগ্মসম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মহানগরে আগের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদকে সভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের। কেন্দ্রে ১৫ সেপ্টেম্বর তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office