অনলাইন ডেস্ক: | বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২ | প্রিন্ট | ১৮৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নির্ধারিত সময়ে উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়ায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
নির্ধারিত সময়ে উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়ায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। এ সময় শ্লোগান অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শাবিপ্রবির বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।
অনশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে বলেন, যে প্রশাসন, উপাচার্য এবং শিক্ষকরা আমাদেরকে পুলিশ দিয়ে পেটায় আমরা তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা, উপাচার্য ও প্রক্টোরিয়াল বডি পদত্যাগ না করছেন ততক্ষণ আমরা অনশনে থাকব। এতে যদি কোন শিক্ষার্থীর প্রাণনাশ হয় তাহলে এর জন্য দায়ী থাকবেন উপাচার্য, প্রক্টোরিয়াল বডি ও ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মারুফ বলেন, আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য পদত্যাগ করেননি। ক্ষমতার লোভে উপাচার্যকে নির্লজ্জ করে দিয়েছে। তাই পূর্বে ঘোষণা অনুযায়ী আমরণ অনশন শুরু করেছি। যতক্ষণ না উপাচার্য পদত্যাগ করবেন ততক্ষণ আমরা অনশনে থাকব।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রেস ব্রিফিং করে সময় বেঁধে দিয়ে অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এদিকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। দুপুর ১২টার দিকে চলমান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘শ্লোগানের মাধ্যমে শিক্ষকদের হেয় করছেন উল্লেখ করে তারা এ মানববন্ধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিনা ব্যানারে সাধারণ শিক্ষক পরিচয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেন তারা।
এসময় শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকরা জাতির বিবেক। আমরা ছাত্রদের গড়ে তুলি। তারা আমাদের সন্তানের মতো। আন্দোলন করতে গিয়ে তারা নারী শিক্ষকদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, শ্লোগান দিচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিচ্ছে। যেকোনো একজন শিক্ষকের জন্য সব শিক্ষকদের নিয়ে তারা এভাবে বলতে পারে না। তাই আমরা এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ।
তবে শিক্ষকদের একাংশের এ মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।
অপরদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য ১০-১২ জন শিক্ষক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। আমাদের লজ্জা হচ্ছে যে শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে মার খেয়েছে এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকরা কোনো কথাই বলেনি। অথচ আজ তারা মানববন্ধন করে আমাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে জানালেন।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে সিরাজুন্নেছা ছাত্রী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর এক পর্যায় রোববার (১৬ জানুয়ারি) দাবি আদায়ে ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।