অর্থনীতি ডেস্ক | রবিবার, ২১ আগস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ৭৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
হাজি আবদুল কুদ্দুস কুদু। বগুড়ার শেরপুরের চালকল মালিক সমিতির সভাপতি। তাঁর একারই ১০ গুদাম, সবক’টিতেই থরে থরে সাজানো ধানের বস্তা, আছে চালও। কত বস্তা! সেটার হিসাব হয়তো আবদুল কুদ্দুসেরও অজানা। তবে চালবাজি ঠিকই জানা। এই দুঃসময়ে তিনি ধান বেচেই ধনী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। সরকারি নিয়মে বলা আছে, গুদামে ধান মজুত রাখা যাবে সর্বোচ্চ ৩০ দিন আর চাল ১৫ দিন। নিয়মকে থোড়াই কেয়ার! শ্রমিকরাই বলছেন, তাঁর গুদামে গত বছরের ধানও আছে। জ্বালানি তেলের দর বাড়ার ছুতায় নতুন করে যখন চালের দামে হাওয়া লাগে, তখনই আবদুল কুদ্দুসের গুদামে পড়ে তালা। শুধু কুদ্দুসই নন; শেরপুরের সিরাজুল ইসলাম, হিটলার হোসেন, হাসেম আলী, আমিনুল ইসলাম মিন্টু, আলামিন হোসেন, গোলাম রব্বানীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ধান-চাল ব্যবসায়ীর গুদামেও মজুত আছে হাজার হাজার বস্তা ধান-চাল।
অভিযোগ রয়েছে- উত্তরাঞ্চলের ধান-চালের অবৈধ মজুতদারদের কারণে চালের বাজারের দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না। মজুতদারির কারণে উত্তরের বাজারে বাজারে কমেছে ধানের সরবরাহ। ফলে ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী। স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় বেশি দামে ধান কেনার কারণে বাড়ছে চালের দাম। মজুতদারদের গুদামে আটকে থাকা হাজার হাজার মণ ধান বাজারে ছাড়লে চালের দাম কমে যেত বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা। ধান মজুতদারদের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কিছু চালকল মালিকও অতিরিক্ত চাল মজুত করেছেন। দাম চড়তে থাকায় বাজারে এই চাল ছাড়া হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে তৈরি হচ্ছে চালের সংকট। দেশের ধান-চালের বড় মোকাম দিনাজপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও বগুড়ার বাজার অনুসন্ধান করে মিলেছে এসব তথ্য।
সংশ্নিষ্ট জেলার খাদ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুতদারি রোধে অটো মিলগুলোর গুদাম পরিদর্শনসহ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে বাস্তব ছবি একেবারেই উল্টো। এখনও উত্তরের অর্ধশতাধিক অটো রাইস মিলের গুদামে হাজার হাজার মণ ধান সংরক্ষিত রয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর মিলেছে। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান বলেন, বেসরকারিভাবে কার কাছে কত ধান মজুত আছে, সে তথ্য বের করতেই হবে। কোথায় ধান মজুত আছে এবং কেন আছে- এটা সরকার সংশ্নিষ্টদের দেখতে হবে। তাহলেই চালের দাম কেন বাড়ছে, সেটার কারণ জানা যাবে।
মজুতদারিতে যাঁরা :বগুড়ার শেরপুর শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে শেরুয়া বটতলা বাজার। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কসংলগ্ন এই বাজারের চারপাশেই চোখে পড়ে ছোট-বড় কয়েকশ চাতাল। রয়েছে অটোমেটিক রাইস মিলসহ বেশ কয়েকটি সেমিঅটো রাইস মিল। ওই বাজার থেকে মাত্র দুইশ গজ দক্ষিণে সামনে এগোলেই চোখে পড়ে বড় বড় চারটি চাতাল। চাতালের পাশেই গুদাম। অন্যপাশে দুটি সেমিঅটো রাইস মিল। চাতালে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত জনাবিশেক নারী-পুরুষ। তাঁদের ওই মিল-চাতাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, এসবের মালিক হাজি আবদুল কুদ্দুস কুদু। তাঁর নিজের চারটি গুদাম আর ছয়টি ভাড়ায়।
শেরুয়া বটতলার আবদুল কুদ্দুসের মতো আরও যেসব ব্যবসায়ী রয়েছেন, তাঁদের মিল ও চাতালেও দেখা গেল একই ছবি। সরকারি নিয়ম না মেনে অনেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে গুদামে ধান-চাল সংরক্ষণ করে রেখেছেন। শেরপুরের আলাল অটোমেটিক রাইস মিল, উত্তরবঙ্গ অটোমেটিক রাইস মিল, শিনু অটোমেটিক রাইস মিল ও মজুমদার অটোমেটিক রাইস মিলে রয়েছে কয়েক হাজার বস্তা ধান ও চালের মজুত।
এ ব্যাপারে শেরপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস কুদু বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করছি। কখনও মজুতদারির ব্যাপারে আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। এখন বাজার খারাপ, তাই নানা রকম নিয়ম মানা হচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, এই উপজেলার অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই ধান-চাল আছে। তাঁরা বিক্রিও করছেন। তাঁদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওগাঁর ন্যাশনাল অটো রাইস মিল, বেলকোন কোম্পানি, সরস্বতীপুরে এসিআই কোম্পানি, মহাদেবপুরে বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিল, লস্করপুরে ঘোষ অটো রাইস মিল, কালীতলা সুলতানপুরের সুফিয়া অটো রাইস মিল, এম কে অটো রাইস মিল, বাইপাস মোড়ের তসিরুন অটো রাইস মিল, সরদার অটো রাইস মিল, আনন্দনগরের আর এম রাইস মিল, লস্করপুরের খগেন রাইস মিলে রয়েছে কয়েক হাজার মণ ধান ও চাল।
জয়পুরহাট সদরের সাদিয়া রাইস মিল, পাঁচবিবি উপজেলা সদরের ম ল চালকল, আক্কেলপুর উপজেলা সদরের মাহীন চালকল, কালাই পাঁচশিরা বাজারের থ্রি ফুডস প্রসেসিং মিলের গুদামেও রয়েছে হাজার হাজার মণ ধান ও চাল। দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় প্রায় দুই হাজার চালকল রয়েছে। এর মধ্যে অটো রাইস মিল ও হট ফ্লু মিল প্রায় দুইশ। এ ছাড়া বাকিগুলো মেজর মিল ও হাসকিং মিল। দিনাজপুর সদর, বীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জে সবচেয়ে বেশি চালকল রয়েছে। এখানকার বড় মিলগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই হাজার হাজার মণ ধান-চালের মজুত রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, কয়েক বছরের চেয়ে বাজারে চালের দাম অনেক বেশি। দাম বৃদ্ধি যদি ধান মজুতের কারণে হয়, তবে তা বন্ধ করতে অধিদপ্তরের একাধিক দল কাজ করছে। কোনো অসংগতি থাকলে অসাধুদের বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
পরিবহন খরচ যা লাগছে :হঠাৎ করে চালের দাম বাড়ার পেছনে বেশি দায়ী করা হচ্ছে পরিবহন খরচকে। তবে বিভিন্ন স্থানে দূরত্ব অনুসারে পরিবহন খরচের হিসাব সে কথা বলছে না। তেলের দাম বাড়ার পর দিনাজপুর থেকে ২৫০ বস্তা (১৭ হাজার ৫০০ কেজি) চাল নিয়ে একটি ট্রাক ঢাকা গেলে ভাড়া গুনতে হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় (৭০ কেজি) লেবার খরচ ও আড়তদারি মিলে যোগ হয় আরও ১৪ টাকা। অর্থাৎ খরচ যোগ করে কেজিপ্রতি দাম বাড়ে ১.২২ থেকে ১.৩৪ টাকা।
একই চিত্র নওগাঁয়ও। সেখান থেকে ২৫০ বস্তা চাল রাজধানীতে নিয়ে আসতে ট্রাক ভাড়া লাগে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। বস্তাপ্রতি লেবার খরচ ও আড়তদারি বাবদ গুনতে হয় আরও ১৪ টাকা। হিসাব করলে প্রতি কেজি চাল নওগাঁ থেকে ঢাকায় আনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ১ টাকা থেকে ১ টাকা ১০ পয়সা। তবে চালের দর বলছে ভিন্ন কথা। অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি কেজি চালের দাম ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। হিসাব করলে এটা বর্ধিত খরচের ১০ গুণের বেশি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, চালের মোকামগুলোতে অতিরিক্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া যোগ করে দাম বেড়ে যাচ্ছে। এ জন্য অনেক ব্যবসায়ী চাল কেনাবেচা আপাতত বন্ধ রেখেছেন।
চালের দরে ওঠানামা :গতকাল শনিবার দিনাজপুরের বাহাদুর বাজার এনএ মার্কেটে পাইকারিতে আটাশ চাল প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৯৫০ টাকা। ঊনত্রিশ চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৮৫০ টাকা, মিনিকেট চাল ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪৫০, গুটিস্বর্ণা চাল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫৫০, বাসমতি চাল ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ৯৫০, নাজিরশাইল চাল ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সুমন স্বর্ণা প্রতি বস্তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা দরে।
অন্যদিকে, খুচরা চালের বাজারে আটাশ চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে। একইভাবে ঊনত্রিশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি, মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭২ টাকা, গুটিস্বর্ণা চাল ৫২ থেকে ৫৩, বাসমতি চাল ৮০ থেকে ৮২, নাজিরশাইল চাল ৮০ থেকে ৮২ টাকা এবং সুমন স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে।
বগুড়ায় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ জিরাশাইল ২ হাজার ৫০০ টাকা, কাটারি প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ৩ হাজার ৪০০ ও রনজিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২ হাজার ৭০০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। নওগাঁর খুচরা চালের বাজারে সম্পা কাটারি প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭৩ টাকা, মিনিকেট (জিরাশাইল) ৬০ থেকে ৬৬ টাকা, বিআর-২৯ চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা-৫-এর দাম ৫৪-৫৫ টাকা এবং গুটিস্বর্ণা ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি করে বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যা বলছেন :বগুড়ার খুচরা চাল ক্রেতা আমির মওলা বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট বাজেট। এর মধ্যেই সংসার চালাতে হয়। কোনো কারণ ছাড়াই দেখছি, প্রতিদিন চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা করে বাড়ছে। আমার মতো সীমিত আয়ের পরিবারের সদস্যরা মাস শেষে কীভাবে সংসারের হিসাব মেলাব, বুঝতে পারছি না।’
পাইকারি চাল ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, ‘মোকামগুলোতে চালের দাম অনেক বাড়তি। জ্বালানির দাম বাড়ার পর প্রতি বস্তা চালের দাম দেড়শ থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিআর-২৮ চালের প্রতি বস্তার দাম বেড়েছে সাড়ে ৩০০ টাকা। আমরা যেভাবে কিনছি, সেভাবেই বিক্রি করছি। মোটা টাকা লাভ করছেন মজুতদাররা।’
দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মোসাদ্দেক হুসাইন বলেন, ‘ধানের দাম এখন অনেক বেশি। ব্যবসায়ীরা ধান-চাল গুদামে আটকে রাখছেন- এ অভিযোগ ঠিক নয়। এখন বাড়তি দামে কেউ ঝুঁকি কেন নেবেন?’ তিনি ধানের দরের সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে চালের দাম বাড়ছে বলে দাবি করেন।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের ধানের কারসাজির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উচিত, সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী সময়ে চালের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের বিপদ আরও বেড়েছে। আর মোটা চালের দাম বাড়লে বেশি সমস্যায় পড়েন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সরকারের কড়া নজরদারি দরকার।
নওগাঁ শহরের পুরান চালপট্টি এলাকার কিরণ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মোহন সরকার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলগেটে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মিনিকেট চাল মিলগেটেই ৩ হাজার ৩০০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে; আগে যেটার দাম ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছেন মিল মালিকরা। আবার মিল থেকে দোকানে চাল আনা পর্যন্ত পথেও ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, মিলারদের মধ্যে কেনার প্রতিযোগিতা থাকায় ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জ্বালানি ও ধানের দাম বাড়ার কারণে বাজারে চালের দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
দিনাজপুরে বাহাদুর বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী চাল দিচ্ছেন না মিলাররা। এ কারণে বাজার বাড়তির দিকে। বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী এরশাদ জানান, প্রতিদিনই চালের দাম বাড়ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য :কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে চালের উৎপাদন চাহিদার চেয়েও বেশি। এই অর্থবছরে ৪ কোটি ৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টনের বেশি, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ লাখ টন বেশি পাওয়া গেছে। এত চাল উদ্বৃত্ত থাকার পরও কেন চালের দাম বাড়ছে- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্নেষকরা।
খাদ্যমন্ত্রী যা বলছেন :অভিযোগ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী মিলাররা ধান ৩০ দিন ও চাল ১৫ দিনের বেশি মজুত রাখতে পারবে না। যারা অবৈধ মজুত করে চালের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যাপ্ত উৎপাদন আছে, সরবরাহ আছে অথচ চালের দাম বাড়বে? ধানের যদি ঘাটতি থাকত, তাহলে আমদানি করে তা পুষিয়ে নেওয়া হতো। আমদানির লাইসেন্স দেওয়ার পরও তো ব্যবসায়ীরা আমদানি করেননি। এতেই সবকিছু স্পষ্ট। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বাড়ানো কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না।