বৃহস্পতিবার ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

শীতে কাঁপছে সারা দেশ

  |   শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শীতে কাঁপছে সারা দেশ

পৌষের শুরুতেই শীতের দাপটে কাঁপছে সারা দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ঘন কুয়াশার কারণে মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়, যা শীত ও কুয়াশাজনিত ঝুঁকির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো—চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বশেষ শনিবার (২৭ডিসেম্বর) সকালে যশোরে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হালকা থেকে ঘন কুয়াশার এই প্রবণতা আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জানুয়ারির শুরু থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি সাত জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, কুয়াশার এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং জানুয়ারির শুরুতে শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, পাহাড়ি অঞ্চলের কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ুতাড়িত কুয়াশা প্রবেশের ফলে সামগ্রিকভাবে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এতে সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শীতের অনুভূতিও তীব্রতর হচ্ছে।

শনিবার (২৭ডিসেম্বর) ভোর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক, নদীঘাট ও ফসলের মাঠ কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেক মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ও আরিচা–কাজিরহাট নৌরুটে সন্ধ্যার পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

উত্তরের জেলাগুলোর পরিস্থিতি আরও করুণ। গত কয়েক দিনে শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে জনপদ; দিন-রাত মিলিয়ে শীত যেন আরও কঠোর রূপ নিচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office