বুধবার ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ২ জনের লাশ দাফনে বাধা

অনলাইন ডেস্ক:   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ৩২৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ২ জনের লাশ দাফনে বাধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানচিত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ গ্রামে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের দুজনের লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজনের বাধায় নির্ধারিত সময় ও স্থানে তাঁদের জানাজাও পড়ানো সম্ভব হয়নি। উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহমদিয়াদের জন্য নির্ধারিত স্থান জেলা শহরের কান্দিপাড়ার কবরস্থানে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সুহিলপুরে আহমদিয়াদের জন্য আলাদা কবরস্থান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোর পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা এলাকার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিমের ভাই এস এম ওসমানের (৭০) মৃত্যু হয়। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে একই গ্রামের আবদুল হকের স্ত্রী বিউটি হক মারা যান। আজ সকালে ঘাটুরা গ্রামের কবরস্থানে তাঁদের দাফনের সিদ্ধান্ত নেন স্বজনেরা। সে অনুযায়ী বেলা ১১টায় ঘাটুরা গ্রামে দুজনের জানাজা পড়ানোর সময় নির্ধারণ করে দেন তাঁরা। পরে তাঁরা ঘাটুরা কবরস্থানে গিয়ে দুজনের জন্য দুটি কবর খোঁড়েন।

ওই দুজনের লাশ দাফন ও জানাজা পড়াতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেন। এ সময় গ্রামবাসীও সঙ্গে যোগ দেন। জানাজা পড়ানোর সময় স্থানীয় লোকজন আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে খবর পেয়ে পুলিশ ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়ামিন হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে আলোচনা করে দুজনের লাশ জেলা শহরের কান্দিপাড়ায় দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।

ঘাটুরা গ্রামের আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সাধারণ সম্পাদক এস এম সেলিম বলেন, দুজনের কবর খোঁড়ার পর গ্রামের কিছু লোক এসে বাধা দেন। প্রশাসন এসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে। আহমদিয়াদের জন্য আলাদা কবরস্থান করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়।

আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হাজারীর বাবা তৌহিদ মিয়া হাজারীর নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন লাশ দাফনে বাধা দেন।

২০২০ সালের ৯ জুলাই ঘাটুরা গ্রামের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের তিন দিন বয়সী এক শিশু মারা যায়। তাকে ওই কবরস্থানে দাফন করার পর গ্রামের লোকজন লাশটি কবর থেকে তুলে চাটির মধ্যে মুড়িয়ে সীমানাপ্রচীরের বাইরে ফেলে দেন। তখনো উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। আলোচনা সাপেক্ষে ওই শিশুর লাশ কান্দিপাড়ায় দাফন করা হয়। পাঁচ-ছয় মাস আগেও লতিফা বেগম (৭৫) নামের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের আরেক বৃদ্ধ মারা যান। সে সময়ও একই সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে কান্দিপাড়ায় আহমিদয়া সম্প্রদায়ের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তৌহিদ মিয়া হাজারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হাজারী বলেন, সামনে ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনের পর বিষয়টি সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেছে প্রশাসন। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের আলাদা কবরস্থানের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মহসিন মিয়া ১ শতক এবং তিনি ১ শতক জায়গা দেবেন। বাকি জায়গা তাঁরা কিনে নেবেন। তাঁর বাবা কোনো বাধা দেননি। এটা তাঁরা অহেতুক বলেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষ আলোচনা করে কান্দিপাড়া এলাকায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব কবরস্থানে ওই দুটি লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘাটুরা গ্রামে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা কবরস্থান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office