| সোমবার, ০৭ জুন ২০২১ | প্রিন্ট | ৩৪২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
একজন সাবরিনা সামাদ ফিরোজী # সালাম মাহমুদ
ব্যস্ত এবং যান্ত্রিক সময়ে বসবাস করেছি আমরা। সমাজ, সমাজের মানুষদের নিয়ে চিন্তাশীল হবেন দু’দন্ড সময় হয় না কারও। সময়ই বদলে দিয়েছে মানুষের মানসিকতা আর চিন্তা-চেতনা। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু মানুষ আছেন এ ব্যস্ততম সময়ের মাঝেও সমাজ এবং সমাজের মানুষের মঙ্গল চিন্তায় বিভোর থাকেন সারাক্ষণ। শুধু তাই নয়, বন্ধুত্বের হাত নিয়ে দাঁড়ান সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে। এমনই একজন প্রাণবন্ত সহৃদয় মানুষ সাবরিনা সামাদ ফিরোজী। তিনি পিতা-মাতার সামাজিক কার্যক্রমের সূত্র ধরেই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন সমাজের উন্নয়নমূলক সব কার্যক্রমে। তার জন্ম ২ ডিসেম্বর ঢাকায়। পৈত্রিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার আলালপুর গ্রামে। সাবরিনা সামাদ ফিরোজী একজন শিকড় সন্ধানী মানুষ।
সাবরিনা সামাদ ফিরোজী’র জনক-জননী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত দু’জন মানুষ। পিতা এম এ সামাদ ছিলেন একজন আন্তর্জাতিক বীমা বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরের প্রথম বীমা প্রতিষ্ঠান বিজিআইসি’র প্রতিষ্ঠাতা। বীমা শিল্পের এ ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতা ও সফলতার সাথে। বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বীমা সেক্টরে প্রশিক্ষণের পথ উন্মোচন করেছেন তিনি। বীমা শিল্পের উপর বাংলাদেশে সর্বাধিক গ্রন্থের প্রণেতা এম এ সামাদ। সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও ছিল তার সফল বিচরণ। শুধু তাই নয় তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়েও গবেষণা করে একটি গ্রন্থ লিখেছেন ‘জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ’ নামে। সমাজ সেবায়ও তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তিনি একজন সফল ভাষা সৈনিক ছিলেন, বাংলা ভাষার প্রতি তার আলাদা একটি মমত্ববোধ ছিল।
সাবরিনা সামাদ ফিরোজী’র মাতা ফওজিয়া সামাদ একজন কিংবদন্তী নারী নেত্রী ছিলেন। তিনি মৃত্যুর পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত ঢাকা লেডিস ক্লাবের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সাফল্যের সাথে। এছাড়া বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন কুসুমকলি স্কুল। কুসুমকলির ৯ টি শাখা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে শিক্ষার আলো। একটানা ৩৮ বছর তিনি লেডিস ক্লাবের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নে রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। তাদের এ সেবামূলক মন-মানসিকতার প্রভাব পড়েছে তাদের সন্তানদের মধ্যেও। সামাদ দম্পত্তির এক ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সাবরিনা সামাদ ফিরোজী সবার ছোট। ছেলে তওহিদ সামাদ একজন শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি’র একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং বিজিআইসি’র ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বোন ফ্যান্সি সামাদ উত্তরায় সুপ্রতিষ্ঠিত স্কলাস্টিকা স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক ও এডমিন অফিসার এবং তমজু সামাদ কিড্স স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিতা-মাতা, ভাই-বোনদের পথ অনুসরন করে সাবরিনা সামাদ ফিরোজী সমাজের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। নিজে একজন আইনজীবী, বিয়েও করেছেন আইনপেশার দেশ বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার মইন ফিরোজীকে। মইন ফিরোজী বিলেতের লিংকনসিন থেকে ‘বার-এট-ল’ ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে লিগেল ফিল্ডে কাজ করছেন সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে। মইন ফিরোজী আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিষয় ভিত্তিক ‘ল’ নিয়ে মূল্যবান তথ্যসমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক গ্রন্থ ও জার্নাল রচনা করেছেন। তাতে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীরা মৌলিকভাবে উপকৃত হবে।
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে কৃতীত্বের সাথে এল এল বি সম্পন্ন করে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সাবরিনা সামাদ ফিরোজী। তিনি লিগ্যাল কনসালটেন্ট ফার্ম সামাদ এন্ড এসোসিয়েটস এর হেড অব চেম্বার্স। আইনের মাধ্যমে তিনি অসহায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। সামাজিক সংগঠন, ঢাকা ক্লাব লিঃ, গুলশান ক্লাব লিঃ, উত্তরা ক্লাব লিঃ, ঢাকা লেডিস ক্লাবের সদস্য ছাড়াও জালালাবাদ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আইন সমিতি, মৌলভীবাজার জেলা সমিতি, কুলাউড়া সমিতি, সিলেট সমিতি উত্তরা-এর আজীবন সদস্য। খ্যতিমান ব্যক্তিত্বদের সাথে সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সফল একজন সংগঠক এর পরিচয় দিচ্ছেন সাবরিনা সামাদ। তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।
সাবরিনা সামাদ ফিরোজী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সমাজ উন্নয়নে রাখছেন অনন্য ভূমিকা। ‘জীবনের জন্য শিক্ষা’ এ স্লোগানকে উপজীব্য করে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সামাদ-ফওজিয়া ফাউন্ডেশন’। শিক্ষা সভ্যতাকে সুশীল করে। শিক্ষার আলো সমাজকে করে সুন্দর সৃজনশীল ও নান্দনিক। সাবরিনা সামাদ ফিরোজী-এর চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-ধারনায় শিক্ষা বিষয়টি বিশেষভাবে সমাদৃত। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজকে কীভাবে আলোকিত করা যায় এ ভাবনা থেকে তিনি কাজ করছেন নিরন্তর। এলাকার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার সুমহান আলো ছড়িয়ে দেয়াই তার লক্ষ্য এবং অন্তর্গত স্বপ্ন। এজন্য নানাবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন সাবরিনা সামাদ ফিরোজী। এছাড়া বেকার জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তরে তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ী।
রাজনৈতিক চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে আছেন সাবরিনা সামাদ ফিরোজী । কেননা, রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান তিনি। তার চাচা জনাব মুহিবুস সামাদ কুলাউড়া থেকে ১৯৬৯ সালে এম এল এ নির্বাচনে নির্বাচিত হন এবং তার চাচা’তো ভাই হারুনুর রশিদ চৌধুরী সুইডেনের দু’বারের নির্বাচিত এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কুলাউড়ায় সাধারণ মানুষের মঙ্গল চিন্তা, কুলাউড়ার উন্নয়নে সামাদ দম্পত্তি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। সাবরিনা সামাদ ফিরোজী ছোট বেলা পিতা-মাতা’র মুখে কুলাউড়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গল্প ও স্মৃতিকথা শুনেছেন, যা বর্তমানে পিতা-মাতাকে হারিয়ে প্রতি মুহুর্তে তাদের কথাকে উপলব্দি করছেন। এজন্যই বিশেষভাবে তাদের অবর্তমানে এ সেবাব্রত সূচারুভাবে পালন করে চলেছেন সাবরিনা সামাদ ফিরোজী। পিতা-মাতার আদর্শের পথে তিনি নিজেকে পরিচালিত করছেন।
সত্যিকারের মানুষ কখনো তার শিকড়কে অস্বীকার করতে পারে না। শিকড়ের টান বড় তীব্র। সাবরিনা সামাদ ফিরোজী দেশে-বিদেশে বড় হলেও নিজের শিকড় থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি। তিনি মনে করেন তার একমাত্র শান্তি-ই হলো কুলাউড়ায়। বিশ্বের যেখানেই থাকেন না কেন, শান্তির ফল্গুধারা খুঁজে পান ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটেই। এ জন্যই তার সমস্ত আন্তরিকতা, ভালোবাসা, আগ্রহ, উৎসাহ, সৃজনশীল চিন্তা একমাত্র সিলেটবাসীর জন্য। পিতা-মাতার জন্মস্থানকে ঘিরেই তার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কুলাউড়ার মাটি ও মানুষ তাকে বেঁধে রেখেছে যেন কোনো এক মায়ার সুতোয়, মায়ার বাঁধনে। এ সুতো ছিন্ন হবে না কখনো। শুধু অদৃশ্য টান নয়, কুলাউড়ার মানুষকে তিনি উপলব্দি করেন মনে-প্রাণে, হৃদয় থেকেই। এখানকার উন্নয়ন নিয়েও তার ভাবনার শেষ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুলাউড়াকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, সমস্যামুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সবার আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছা। যে যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে যেকোনো জনপদকেই বদলে দেয়া যায়। সময় এখন দিন বদলের। এ দিন বদলের সারথি হতে চান সাবরিনা সামাদ ফিরোজী।
লেখক: কবি ও সম্পাদক