অনলাইন ডেস্ক: | রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২ | প্রিন্ট | ১০৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে হাস্যকর ও উদ্ভট কথাবার্তা বলে সরকারের মন্ত্রীরা জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে আলাপকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনিসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শুধু হিমশিম খাচ্ছে না, বলা যেতে পারে, অসহায় অবস্থার মধ্যে আছে। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারের উদাসীনতা, সরকারের চরম ব্যর্থতা দায়ী। যাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন, সেই মন্ত্রীরাই নানা রকম কথা বলছেন। মন্ত্রীরা বলছেন, দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে নাকি বিএনপি জড়িত!
মির্জা ফখরুল প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপি যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে আওয়ামী লীগ সরকারে আছেন কেন? আপনারা পদত্যাগ করে বিএনপির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেখুন, দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না। এসব কথা বলে মন্ত্রীরা জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে খেতে পারছেন না, নাভিশ্বাস উঠেছে। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে মন্ত্রীরা হাস্যকর-উদ্ভট কথাবার্তা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’ ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের এখনই পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এই সরকার টিকে আছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছে, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে যাঁরা আজ ভিন্নমত পোষণ করছেন, যাঁরা বিরোধী দল করছেন, যাঁরা জনগণের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা যাতে কথা বলতে না পারেন, লিখতে না পারেন, সে জন্য অনেকগুলো আইন করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাতে কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারে, সে জন্য আইন করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবমতে, দেশে ৬০০ জনের ওপর সংবাদকর্মীর নামে মামলা আছে। দুই শতাধিক সংবাদকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, সরকার নিজেদের দুর্নীতি-অপশাসনের প্রচার ঠেকাতে ‘দ্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ওটিটি প্ল্যাটফর্মস-২০২১’ এবং ‘ওভার দ্য টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা প্রদান এবং পরিচালনা নীতিমালা-২০২১’ নামে দুটি নতুন ‘নিবর্তনমূলক’ নীতিমালার খসড়া করেছে।
২৮ মার্চ বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতালে বিএনপির অবস্থান নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কাল সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির সভা আছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংলাপে বিএনপি অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে কোনো কথাই বলব না। কারণ, নির্বাচন কমিশন মানিই না।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. তৈমূর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহসভাপতি ইউনুস আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফুরুল্লাহ প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।