বুধবার ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

আইরিশদের অলআউট করেও চাপে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৬৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আইরিশদের অলআউট করেও চাপে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

মিরপুর টেস্টে আইরিশদের ২১৪ রানে অলআউট করার পর ২ উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। শান্ত শূন্য আর তামিম আউট হয়েছেন ২১ করে। ১২ রানে অপরাজিত আছেন মুমিনুল।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে আয়ারল্যান্ড। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে আয়ারল্যান্ডকে ২১৪ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগাররা। ৫৪ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। বাঁহাতি এই স্পিনারের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১ তম ফাইফার এটি।

যদিও নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ওপেনিং জুটিটা বড় হয়নি তার। দলীয় ২ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মার্ক এডায়ারের বলে শান্ত বোল্ড হন, ফেরেন গোল্ডেন ডাকে।

এরপর তামিম আর মুমিনুল ৫৫ বল খেলে জুটি দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু ৩২ রানের জুটিটি ভাঙে দিনের শেষ বলে ম্যাকব্রিনের ঘূর্ণিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তামিম দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিলে। ৩৬ বলে তিনি করেছেন ২১ রান। ২৩ বলে ১২ রান করে দ্বিতীয় দিনে অপরাজিত থেকে নামবেন মুমিনুল।

এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে তুলে ফেলেছিল ১২২ রান। সেখান থেকে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৪। অর্থাৎ ১২২ থেকে ১২৪- এই ২ রানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ফেলে আয়ারল্যান্ড। সৌজন্যে তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি বোলিং।

৪৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ধুঁকতে থাকা আয়ারল্যান্ডকে টেনে তোলার চেষ্টা শুরু করেন দুই অভিষিক্ত হ্যারি টেক্টর এবং কার্টিস ক্যাম্ফার। দু’জন মিলে গড়ে তোলেন ৮৪ রানের অনবদ্য জুটি।

মনে হচ্ছিল, বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে আইরিশরা। কিন্তু দ্বিতীয় সেশন শেষ হওয়ার খানিক আগেই সফরকারীদের সর্বনাশ ডেকে আনার কাজটি করেন দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে ফেলা হ্যারি টেক্টরকে সরাসরি বোল্ড করে প্রথমে সাজঘরের পথ দেখান। ৯২ বল খেলে ৫০ রান করে বিদায় নেন টেক্টর। দলীয় রান তখন ১২২। এরপরই ১২৩ রানের মাথায় তাইজুল ইসলামের বলে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান পিটার মুর।

১২৪ রানের মাথায় ৩৪ রান করা কার্টিস ক্যাম্ফারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। ৫৫ বল কাটিয়ে ১৯ রান করা অ্যান্ডি ম্যাকব্রিন পেসার এবাদত হোসেনকে পুল খেলতে গিয়ে হন মুমিনুল হকের ক্যাচ।

লরকান টাকার দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় তাইজুলের বলে লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ের শিকার হতে হয় তাকে। ৭৪ বলে টাকার করেন ৩৪ রান।

শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে আয়ারল্যান্ড। অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নি চেষ্টা করেছিলেন বিপর্যয় কাটানোর; কিন্তু তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণিতে ধরাশায়ী হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনিও। ৫০ বলে ১৬ রান করে আউট হন তিনি। এই ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় আয়ারল্যান্ড।

টস জিতে ব্যাট করতে নামার পর শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের তোপের মুখে পড়ে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল। বিশেষ করে দুই পেসার শরিফুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেনের।

এই দুই পেসারের আগুনে বোলিংয়ের মুখে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় আয়ারল্যান্ড। ম্যাচের ৫ম ওভারেই দলীয় ১১ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আইরিশরা। ১০ বলে ৫ রান করে শরিফুলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান মারে কমিন্স।

অন্য ওপেনার জেমস ম্যাককলাম অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নিকে নিয়ে জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন। দলীয় ২৭ রানের মাথায় আউট হয়ে যান জেমস ম্যাককলামও। এবাদত হোসেনের বলে সেকেন্ড স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তার আগে করেন ৩৪ বলে ১৫ রান।

তাইজুল ইসলাম ৫৮ রান দিয়ে নেন ৫টি উইকেট। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম ফাইফার। এবাদত হোসেন আর মেহেদি হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১০ ওভারে ৩৪/২ (আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২১৪)

আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭৭.২ ওভারে ২১৪ (ম্যাককলাম ১৫, কমিন্স ৫, বালবার্নি ১৬, টেক্টর ৫০, ক্যাম্পার ৩৪, মুর ১, টাকার ৩৭, ম্যাকব্রাইন ১৯, অ্যাডায়ার ৩২, হিউম ২, হোয়াইট ০*; শরিফুল ৮-১-২২-১, খালেদ ৯-১-২৯-০, ইবাদত ১২-০-৫৪-২, তাইজুল ২৮-১০-৫৮-৫, মিরাজ ১৭.২-৪-৪৩-২, সাকিব ৩-১-৮-০)

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office