জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ১২ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
আজ সোমবার (১২ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে প্রতিবছর পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ,সবার জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার: শিশু শ্রমের অবসান ঘটান’।
বাস্তবিত অর্থে দেখা যায় শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস নামে এই দিবসটি শুধুই কাগজে কলমে উদযাপন করা হচ্ছে। হাটে বাজারে, কলকারখানা কিংবা বাসাবাড়ি, অথবা ঝুঁকিপূর্ণ নানা পেশায় দেখা মিলবে হাজারো শিশুর। যাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত পরিবারের বা ছিন্নমূল শিশু। পরিবারের প্রয়োজনে জীবন ধারণে খাটছে সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে।
যে বয়সে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে হেসে খেলে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে জীবিকার তাগিদে পরিশ্রম করতে হচ্ছে এই শিশুদের। জীবনের শুরুতেই অনিশ্চিত ভবিষ্যত যেনো জানান দিচ্ছে তাদের অদৃশ্য ভাগ্যরেখায়। বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক অধিকার শিক্ষা থেকে।
১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আইএলও শিশুশ্রম বন্ধ করতে কর্মসূচি নেয় এবং ২০০২ সালের ১২ই জুন থেকে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ পালন করা শুরু হয়। সেই থেকে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস।
আইএলও’র হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে মোট ২৪ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু বিভিন্নভাবে শ্রম বিক্রি করে। তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে ১৮ কোটি। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা আরো অনেক বেশি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম একটি প্রকট সমস্যা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে লড়াই করে বাঁচতে হয়। সরকারি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুশ্রমজীবীর সংখ্যা ৭৯ লাখ। এদের মধ্যে ৬৪ লাখ গ্রামাঞ্চলে এবং বাকি ১৫ লাখ শহরে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। এসব শ্রমিকের মধ্যে ৪৫ লাখ শিশুশ্রমজীবী ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত।
কাজে যোগদানের সর্বনিম্ন বয়স সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থন করেছে বাংলাদেশ। এই কনভেনশন অনুসারে ১৪ বছরের নিচে কাউকে কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে না। এজন্য বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসটি বেশি গুরুত্ব বহন করছে।