আমি মেয়ে নই, আমি অপরাজিতা, অনিন্দিতা।
পরাধীনতার প্রাচীর ভেঙে,
আমি হই উর্বশী অনন্যা
অদম্য এক নারী।।
আমাকে স্বাধীনভাবে পথ চলতে দাও,
দাও বিশ্বাস ভালোবাসা,
আমি গোছানো একটি পরিবার দেব,
দেব সুস্থ সমাজ, দেশ ,বিশ্ব,
দেবো সবুজ সুন্দর মায়াময় পৃথিবী
এবং আগামীর ভবিষ্যৎ।।
বাবা, চাচা, মামা, ভাই বোন ও
সন্তান নামের মানুষগুলোকে,
একজন নারীই গর্ভে ধারণ করে।
যুগে যুগে নবী রাসূল,
অলি আউলিয়াগন,
নারীর মাধ্যমেই পৃথিবীতে এসেছেন।
এসেছেন কত জ্ঞানী ও গুণীজন।
বড় বড় বৈজ্ঞানিক, বৈমানিক
কবি সাহিত্যিক,
তারাও এসেছেন নারী নামের মাতৃগর্ভে।।
আমি মানুষ আমি নারী,
আমি কল্যাণময়ী ‘মা’
আমি এক আলোকবর্তিকা।
বিশুদ্ধ অক্সিজেন, আর
সুনির্মল ভালোবাসা।
যে,
ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারেনা,
কোন অশুভ ছায়া।।
আমি কোমলমতি স্নিগ্ধ শুভ্রতা।
আমি অফুরন্ত ভালোবাসা,
অপার নির্ভরতা।।
আমার নিজস্ব কোন সময় নেই,
সবটুকু সময় শুধুই তোমাদের জন্য।
তোমাদের চিন্তায়,
আমি সর্বদা নিমগ্ন।।
এই আমি,
‘আমার’ নামের শব্দটি
আসলেই কি আমার?
সংসার নামক জীবনধারা বহমান,
ইহাই তাহার প্রমাণ।।
হে মানব সমাজ,
তোমরা কি জানো,
প্রসব বেদনার ওজন কত?
একজন নারী,
৫৭ ইউনিট ব্যথা পেয়ে,
একটি জীবনের জন্ম দেয়।
অথচ,
একজন সুস্থ সবল,
পুরুষ মানুষ যদি,
৪৫ ইউনিট ব্যথা পায়,
তাহলে সে অজ্ঞান হয়ে,
মারা যেতে পারে।।
হে মানব সমাজ,
তবেই শোনো, আমি নারী।
অসহনীয় অসহ্য ব্যথা,
সহ্য করেই,
একজন মানব শিশুর জন্ম দেই।
আমি সৃষ্টি করি আগামী।
আমি মা,
আমি আমার সন্তানের প্রথম
ভালোবাসা।
আমি আমার সন্তানে প্রথম
মুখের ভাষা
অ ——+আ।
আমি আমার সন্তানের প্রথম ,
শিক্ষিকা।।
হে মানব সমাজ,
নারী বলে কেন করবে অবহেলা,
বিনা কারণে গড়েনি আমায়,
বিশ্ব বিধাতা।।
আমি দীপশিখা,
নিরবে পুড়ে পুড়ে বিলিয়ে যাই আলো।
অন্তরের গভীরে যা কিছু আছে,
সবার জন্যই তা ভালো।
আমি সেই শক্তিমান নারী দৃঢ় প্রত্যয়ী,
প্রতিটি কষ্ট ,যন্ত্রণা, বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে,
শত প্রতিকূলতার পথ অতিক্রম করে,
এই বিশ্ব মানব সমাজে
নারীত্ব বোধ অর্জন করে,
অস্তিত্ববোধ টিকিয়ে রেখেছি,
হয়েছি অনন্য এক গল্প ইতিহাস।
আমি বিদ্রোহী আমি সাহসী,
আমি স্বার্থপর হীন সহযাত্রী।
কষ্ট সহিষ্ণু ধৈর্যশিলা।
তোমাদেরই মহাসারথী।।
আমি অগ্নিকন্যা,
তেজস্বী আলোকচ্ছটা,
আমি জীবন যৌবন পৌঢ়তেও
ক্লান্তিহীন যোদ্ধা।।
আমি লৌহ মানবী,
আমি বিশ্বময়ী মহানায়িকা,
আমি অগ্নি, বিপ্লবী,
সহযোদ্ধা।
আমি সহধর্মিনী বিজয়িনী,
আলোকিত দূরদর্শী
নারী।।
আমি গর্বিত আমার নারীত্ববোধ নিয়ে,
কৃতজ্ঞতা জানাই বিধাতার নিকট,
যিনি আমাকে সুনিপন করে,
গড়েছেন,
এবং,
নারী রূপেই পাঠিয়েছেন,
এই সুন্দর ধরণীতে।।
আমি নারী,
অপূর্ব অপরূপা, কোমলমতি।
যেন, লাজে রাঙা লজ্জাবতি।
সাত রঙে রাঙিয়ে জীবন তরী,
ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলি।।
আমি নারী,
আমি মায়াবতী মেঘবতী,
কখনো আবার ভীষণ
প্রেমময়ী প্রেয়সী।।
যেন ,পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধ শোভা,
আবার কখনো,
মেঘলা ভালোবাসা।
যেন,
ভোরের স্নিগ্ধতায় পরশমাখা এক কবি।
আমি নারী।
কখনো আবার,
ভোরের শিশির ভেজা নতুন সূর্য,
নতুন দিনের শুভ সূচনা,
যেন,
কাব্য কথায় আছে আমার গভীর দৃষ্টি।
কখনো আবার,
মেঘলা আকাশের সকাল বেলার,
এক পশলা বৃষ্টি।।
আমি নারী,
মমতাময়ী এক ‘মা’ নামের
নারীর গর্ভেই আমার সৃষ্টি।
মহান নারী দিবস আজ,
সার্থক জনম আমার,
৮ই মার্চ।
পুনর্জন্ম বলে যদি কিছু থেকে থাকে,
আমি নারী রূপেই আসবো এই পৃথিবীতে।।