নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরে শেষ হবে কি না- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘না। বলা হয়েছে যে নির্বাচনটা ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শুরু হওয়ার পর। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে, কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সেটাও ইনফ্যাক্ট ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জায়গা হয়েছে, সরকার কি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করতে চায়? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলা বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই সরকার নেয়নি। অফিস দেওয়াতে উপজেলাকে খর্ব করা হচ্ছে ব্যাপারটা আমার কাছে এরকম মনে হয় না। বরং আইনগতভাবেই আপনি যদি খেয়াল করেন, উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ২৫— এটা নিয়ে আমরা একসময় প্রচুর বলেছি, লিখেছি— সেখানে তো একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবেই লিগ্যালি আছেন।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যদি তিনি লিগ্যালি থাকেন, এখন কেউ বলতে পারেন যে এটা থাকা উচিত কি না, উপদেষ্টা থাকা— সেটা একটা ডিফারেন্ট ডিবেট। কিন্তু অফিস রাখার মাধ্যমে আসলে সেটাকে যে নতুন করে অনেক বেশি খারাপ করে ফেলা হলো, মোটেও ব্যাপারটা সেরকম না। কারণ আমরা যদি এভাবে তর্কটা বা যুক্তিটা দেই যে, একজন এমপি যেহেতু উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা, তার তো উপজেলা পরিষদে একটা অফিস থাকা উচিতই। আবারও বলছি, এই আলাপ সমাজে আছে, কেউ করতে পারেন যে তার (সংসদ সদস্য) আদৌ উপদেষ্টা থাকা উচিত কি না। সো উপজেলাকে নিয়ে সরকারের এই ধরনের কোনো— মানে এটাকে খাটো করা বা আরও বেশি অক্ষম করে তোলার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
এই টাকা কত মাস দেওয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাওরে যে টাকা দেওয়া হচ্ছে সেটা আসলে এককালীন একটা বরাদ্দ। এটা যে কন্টিনিউয়াসলি দেওয়া হবে তা না, কারণ যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রাথমিকভাবে সংকটটা কিছু কাটিয়ে ওঠার জন্য।’
অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা আছে, অনেকে জেলে আছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথম কথাটা হলো যারা বন্দি আছেন তারা গণহত্যার মামলায় আসলে বন্দি নেই, তারা আসলে বন্দি আছেন হত্যা মামলায়। মানে এটা নিয়েই প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি এসেছে যে তারা একটা স্পেসিফিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তারা সেখানে হত্যাকাণ্ডের মধ্যে পার্টিসিপেট করেছেন। মামলাটা এই রকম। এদের গণহত্যার দায় খানিকটা বরং দেওয়া যায়—আমি কিন্তু রিপিট করছি কথাটা। গণহত্যাও না, আসলে আমরা আওয়ামী লীগকে বা শেখ হাসিনাকে বিচার করেছি মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যাদের এ ধরনের হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও কারও অপরাধ হত্যা মামলার হত্যার চাইতেও বেশি—আমি রিপিট করছি। যাদের যাদের এ ধরনের মামলা দেওয়া হলো, কারও কারও অপরাধ হত্যার চাইতেও বেশি। কিন্তু, এখানে একটা ‘কিন্তু’ আছে। সেটা সংশ্লিষ্ট যে অপরাধ আমরা মনে করছি যে গণহত্যার দায়ভার তাদের আছে কি না।’
‘পোস্ট সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার যখন এই বিচারগুলো হচ্ছিল—ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে বা টোকিও ট্রায়ালে বা রুয়ান্ডা জেনোসাইডের পরও—সেখানে এই জেনোসাইডগুলোকে সাপোর্ট করা বা এগুলোকে হতে দেওয়ার জন্য যারা কোনো না কোনো ফর্মে ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন, তাদেরও কিন্তু বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, ট্রায়ালে আনা হয়েছে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যে অপরাধে, যেই অভিযোগে তারা গ্রেফতার আছেন—আমি এই দায়িত্বে আসার আগেও, নির্বাচনের আগেও আমি বলেছি যে এই কাজগুলোতে তাদের অভিযুক্ত করা ভুল। এখন এই যে অভিযুক্ত তারা আছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে নোয়াবের প্রতিনিধিরা এইটা তুলেছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে এই ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে একটা কথা বুঝতে হবে, এটা কিন্তু একটা বিচারিক প্রক্রিয়া। মানে এটা সরকার সব কিছু করে ফেলতে পারে না। সো এটা একটা বিচারিক প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের সঙ্গে কোলাবরেট করে সরকারের যতটুকু সম্ভব সরকার সেই কাজটা নিশ্চয়ই করবে। এই সরকারের সময়ে অন্তত কেউ যেন অন্যায়ভাবে আটক না থাকেন, অন্যায়ভাবে ট্রায়ালের মধ্যে না যান সেই চেষ্টা সরকার করবে।’
ডেঙ্গুর বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে। আপনারা জানেন বর্ষার সময় আমাদের দেশে কমনলি হয়, আমরা আগে বলেছি যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে যথেষ্ট সফল হয়েছে। এবার আমরা অন্তত এই সময়টায় দায়িত্বে আছি, আমরা বিশ্বাস করি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমরা এবার বেটার পারফর্ম করবো। আমাদের এখানে ডেঙ্গুর সংকট খুব মেজর হবে না।’