| বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ৮৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
‘আচ্ছা, যদি ভবিষ্যৎ থেকে কোনো মানুষ হঠাৎ সামনে চলে আসে কেমন লাগবে? বেশিদিন না, ধরো মাত্র চার দিন আগে, করপোরেট দুনিয়ার একজন সামনে এসে দাঁড়াল। একে একে প্রকাশ করতে থাকল সব গোপন বিষয়- তাহলে কি চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা হবে না?’ আশরাফুল আলম শাওন ঠিক এই প্রশ্নই করেছিল আমাকে। সেটাও দুই বছর আগের কথা। সে মুহূর্তে তাঁর প্রশ্নের সঠিক কোনো জবাব দিতে পারিনি। তবে প্রশ্নটা যে ভাবিয়ে তুলেছিল- সেটা স্বীকার করতেই হবে। শাওনের এই প্রশ্ন থেকেই টাইম ট্রাভেলের গল্প পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা মাথায় আসে। তবে শাওন যেভাবে বলেছিল, ঠিক সেভাবে চাইনি। শাওনকে সরাসরি বলেছিলাম, “আমি ভাই করপোরেট দুনিয়ার মানুষ সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না। তাই টাইম ট্রাভেলের গল্প যদি তুলে ধরতে হয়, সেই মানুষগুলোকে বাছাই করতে হবে, যাদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ বেশি।
গল্প নিয়ে যেন আলাদা করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় না যেতে হয়, তাই এতে কিছুটা মারফতি ভাবনা যোগ করা যেতে পারে। আমরা বহুকাল ধরে পীর-ফকিরের নানা কিংবদন্তি শুনে আসছি। সেইসব কিংবদন্তির আলোকেই চরিত্র উপস্থাপন করতে হবে। কথা এটুকুই, এরপর ভাবনার সাগরে ডুব দিয়ে ‘দুই দিনের দুনিয়ার’ গল্প তুলে আনা। শাওন যদিও ভবিষ্যতের চার দিনের কথা তুলে এনেছিল, পরে সেটাকে কমিয়ে দুই দিনের করা হয়। আর গল্পের নামকরণ করা হয় ‘দুই দিনের দুনিয়া’। যদিও দু’দিনের গল্প, কিন্তু এই নামের মাঝে একটা গভীর সত্য মিশে আছে।”
‘দুই দিনের দুনিয়া’ গল্প ভাবনা নিয়ে এক নিঃশ্বাসে এ কথাগুলোই বলে গেলেন নির্মাতা অনম বিশ্বাস। যে ওয়েব নিয়ে এখন দর্শকের মাঝে চলছে নানা আলোচনা, এর নির্মাণ পরিকল্পনা জানতেই এই নির্মাতার মুখোমুখি হওয়া। আর শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়েছিল গল্পের উৎস। সেটা জানার পর অনমের কাছে প্রশ্ন ছিল, চরিত্র উপস্থাপনে কোন অভিনয়শিল্পী গল্পের জন্য মানানসই হবে, তা নিয়ে কোনো ভাবনা ছিল কিনা? উত্তরে অনম বিশ্বাস বলেন, ছবির প্রধান দুই চরিত্র ট্রাক ড্রাইভারের জন্য চঞ্চল চৌধুরীর কথাই সবার আগে মাথায় এসেছিল।
এর আগে তিনি আমার ‘দেবী’ ছবিতে মিসির আলির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ। শুধু এই কারণে তাঁকে নিয়ে ওয়েব ছবি করা- এটা ভাবলে ভুল হবে। চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে কাজ করতে চাওয়ার মূল কারণ তিনি ভার্সেটাইল অভিনেতা। যে কোনো চরিত্র পর্দায় বাস্তব করে তুলে ধরার অসাধারণ ক্ষমতা আছে তাঁর। আমার ধারণা, দর্শকও এই কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না। ভালো লাগার বিষয় এটাই যে ‘দুই দিনের দুনিয়া’য় কাজ করার জন্য চঞ্চল চৌধুরী আলাদা করে সময় বের করেছেন। অভিনয় করেছেন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। একইভাবে জামশেদ চরিত্রেও ফজলুর রহমান বাবু নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অভিনয় করে গেছেন। ছবির অন্যান্য কলাকুশলীও যাঁর যাঁর জায়গা থেকে নিজেদের সেরা কাজটি তুলে ধরেছেন। দর্শক প্রতিক্রিয়া থেকে সেটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়া ‘দুই দিনের দুনিয়া’ ছবিতে অভিনয় নিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘অনমের কাজের ধরন, গল্প উপস্থাপনের ভঙ্গি যে অনেকের চেয়ে আলাদা, তা জানতাম। কিন্তু এবারের কাজটির জন্য যে পুরোপুরি ট্রাক ড্রাইভার বনে যেতে হবে- তা ভাবিনি। প্রথম ট্রাকের হুইল ধরে বসা তাও আবার পুরোনো ট্রাক- যা সহজে আয়ত্তে আনা যায় না, সেটাই চালাতে হয়েছে আমাকে। আবার এটাও খেয়াল রাখতে হয়েছে, ময়মনসিংয়ের ব্যস্ত সড়কে ট্রাক চালিয়ে অভিনয়ও ঠিকঠাক করে যেতে হবে। এটি সত্যি এক রকম চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য।’
অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু বলেন, “অপরাধ আর শাস্তির গল্প ও বহুবার বহুভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ‘দুই দিনের দুনিয়া’র গল্প যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে- তা দেশীয় ছবিতে আগে কখনও দেখা যায়নি। তাই গল্প শুনেই একবাক্যে অভিনয়ের জন্য রাজি হয়ে গেছি।” চঞ্চল চৌধুরী ও ফজলুর রহমান বাবুর মতো তানভীন সুইটি ও মৌসুমী হামিদকেও দেখা গেছে ভিন্ন দুটি চরিত্রে। পর্দায় চরিত্রের ব্যাপ্তি কম হলেও মৌসুমী হামিদের মুখে অতৃপ্তির ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, “পর্দায় চরিত্রকে কত সময় ধরে দেখা গেল, সেটা মুখ্য নয়; চরিত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই আসল। যে জন্য ‘দুই দিনের দুনিয়া’ ছবিতে অভিনয়ে করে যে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি, তা ভুলে যাওয়ার নয়।” ছবির অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও অন্যান্য কলাকুশলী কমবেশি সবাই তাঁদের কাজ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। সে আশার প্রদীপের আলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে দর্শক সাড়া পাওয়ায়।