| সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট | ১৭০১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জীবন গতিশীল।এই গতিশীল জীবনে চলার পথটা আমাদেরকেই মসৃণ করে নিতে হয়।নিজের প্রয়াস এবং অদম্য মনোবল আরোহন করাতে পারে সাফল্যের শিখড়ে।
জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষা পিএসসি তে যখন জিপিএ-৫ পাই তখন তো ততটাই বুঝি নাই যে সবে মাত্র মেধার যুদ্ধটা শুরু।উচ্চ মাধ্যমিক এ ভালোই পড়াশোনা করতাম।একে একে জেএসসি এবং এসএসসি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হই।তারপর ভর্তি হই বি এ এফ শাহীন কলেজে।এতদিন সব সময় টপ রেংকিং করতে থাকা আমি উপলব্ধি করতে পারি যে, এখন আমার মতো হাজারো টপার রয়েছে এখানে।সবার স্রোতে ঠিকে থাকতে হলে আমার প্রয়াসটা থাকতে হবে আগের চেয়ে আরোও বেশি।
স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল পড়াশোনা কিন্তু ধাক্কাটা লাগে তখনই যখন পেন্ডামিক চলে আসে।এই করোনা মহামারীতে পড়াশোনার গতিটা মন্থর হয়ে যায়।প্রায় দেড় বছর পর কলেজ খোলে।তখন আমি বুঝে উঠে পারতেছিলাম না যে এত বিশাল পড়াশোনা তার মধ্যে পরীক্ষার মাত্র ৭০ দিন বাকি, নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিলাম না।মনে হয়েছে কেন পড়াশোনা বেগ ধরে রাখিনি।কিন্তু আমার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো যে ‘দৌড়ে নামার আগে যদি অংশগ্রহণ না নিই তাইলে তো পরাজয় নিশ্চিত কিন্তু ম্যারাথন দৌড়ে রাস্তা যতই দূর হউক না কেন, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও পৌঁছাবো।”
আলহামদুলিল্লাহ কঠোর পরিশ্রম করি এবং ২০২১-এ গোল্ডেন প্লাস পেয়ে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হই।
পরীক্ষা শেষ হতেই ভর্তি হই মেডিকেল কোচিং এর জন্য।যে চ্যাপ্টার গুলাতে একাডেমিকেই ২০-২৫ দিন লাগতো তা খুব ভালো ভাবে শেষ করতে হতো মাত্র দুই দিনে।
হঠাৎ যখন আমাদের পরীক্ষা ফুল সিলেবাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় তখন এক দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়েছে দুই চ্যাপ্টার। একটা পর্যায়ে মনে হয়েছে যে আমার দ্বারা আর সম্ভব নয় আমি “শেষ”। কিন্তু মনের মধ্যে বার বার মনে হয়েছিল যে এত দিনে পরিশ্রম, প্রায় ১২ বছরের পড়াশোনা তাহলে এই গুটিকয়েক মাসের পরিশ্রমের জন্য কি শেষ করে দিতে পারি।আর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস তো আমার একার জন্য না।সবাই তো একি অবস্থায় আছে, হঠাৎ নিজেকে গুটিয়ে নিলে আমার নিজের তথা তিলে তিলে গড়া পরিবারের স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙ্গে দেওয়াটা কি ঠিক হবে?
আমি কি তাহলে ওয়েস্ট অব ইনভেস্টমেন্ট এ পরিনত হবো? এই নানা ভাবনার পর মনস্থির করলাম যে, নিজের সর্বোচ্চটা দিবো চান্স পাওয়া পরের বিষয়।একটা কথা বলে রাখি যে- কোচিং এ যখন বেশিরভাগ হাইয়েস্ট মার্ক ৯৮-৯৯ অনেকেই পেত তখন প্রায়ই মনে হতো আমার দ্বারা কি আদৌ সম্ভব।কিন্তু ভাবতাম যে হেরে গেলেও অনেক কিছু শিখবো।
১লা এপ্রিল ২০২২
পরীক্ষা কক্ষে বসলাম,আলহামদুলিল্লাহ ভালোই দিতে পেরেছিলাম।৫ এপ্রিল ভয়ে ভয়ে রেজাল্ট শিটে নিজের রোল প্রথমবার পাইনি, ভয়ে ভুল রোল টাইপ করেছিলাম।পুনরায় সন্দেহ দূর করতে রোল দিতেই দেখি পাবনা মেডিক্যাল কলেজের লিস্টে।অই কয়েক সেকেন্ড এর মূহুর্ত জীবনের সবচেয়ে আনন্দপূর্ণ মুহুর্তের অন্যতম।
পিতা নামক বট বৃক্ষের ছায়া হারিয়েছি অনেক আগে, উনার শক্ত আবরণের ভিতরের কোমল উষ্ণতা আর হাসিমাখা চেহারাটা দেখা হয়নি।কিন্তু আমার এই ছন্দপতন এ আমার পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।একটা কথা বলে রাখি বাবাকে হারানোর পর একটা খাদহীন ঢাল পাই যিনি হচ্ছেন আমার ভাই সাইফুর রহমান।কিছু অনুভূতি লিখে বা বলে বুঝানো যায় না, আমার ডাক্তার হওয়াটা শুধু আমার স্বপ্নই ছিল কিন্তু আর বাস্তবে রূপ দেওয়ার সম্পুর্নটাই ওয়ানম্যান ক্ষাত্রীয় ছিলেন উনি।
বাবার মতো ছায়া, ভাইয়ের মতো স্নেহ আর স্রোতে হাল ধরে এবং বন্ধুর মতো প্রতিকূল অবস্থায় পাশে থাকাটা গুটিকয়েক ভাগ্যবানদের মতো পেয়েছি আমার ভাইয়ের জন্য।
সাদা এপ্রোন জড়ানো পর্যন্ত আমার স্বপ্ন নয়, আমার স্বপ্ন-খেটে খাওয়া মানুষ যারা অন্ন জোগানোর যুদ্ধে নিজেকে লিপ্ত রেখেছে তাদেরকে সেবাদান করা।চিকিৎসা নামক ব্রতে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।
মুছা আহমদ ইমন, গ্রাম: উত্তর হিঙ্গাজিয়া, ব্রাহ্মণবাজার, কুলাউড়া।
মুছা আহমদ ইমন (পাবনা মেডিকেল কলেজ)।