অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট | ১৮১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফাইল ছবি
রোজা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। প্রত্যেক বিবেকবান, প্রাপ্ত বয়স্ক মুলমানের ওপর ফরজ। হ্যাঁ রোজাকালিন সময়ে যদি অসুস্থ থাকে বা সফরে তাহলে ভঙ্গ করার অনুমতি রয়েছে। তবে অন্য সময় তার কাযা বা পূনরাবৃত্তি করা আবশ্যক।
আল্লাহ তা’আলা রোজার জন্য রমজান মাসকে নির্বাচন করেছেন। কুরআন করীমের সঙ্গে এ মাসটির বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। এটি রহমত ও বরকতের মাস।
রমজানের চাঁদ উদয় হওয়ার সাথে সাথে রোজা ও তার ইবাদত, আত্মিক বিশেষ সম্পর্ক এবং নূরানি পরিবেশের সূচনা হয়ে যায়। মুসলিম পাড়ায় মহল্লায় আনন্দের ঢেউ খেলতে থাকে। ঘরে ঘরে নব জীবনে প্রাণ সঞ্চারিত হয়।
এটি যদিও ধৈর্য্য ও আত্মসংযমের মাস, সহমর্মি ও সহনশীলতার মাস, অন্যরকম কিছু অনুশাসন ও বহু সতর্কতার বার্তা নিয়ে আসে। তবুও একে আনন্দ উল্লাস ও প্রেম ও প্রীতি দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
দ্বীনদার ও কুরআন প্রেমিক মানুষের কাছে তো মনে হয় বসন্তবরণ। বাড়ি ঘরে এক ভিন্ন পরিবেশ তৈরী হয়। মসজিদগুলো রুহানি আলোয় উদ্ভাসিত হতে থাকে।
প্রতিদিন এশার সালাত আদায়ান্তে সবাই বাড়ি ফিরে যেত কিন্তু চাঁদ রাতের পরিবেশ সম্পূর্ণই ভিন্ন। এ দিন নামাজিদের সংখ্যা বহু গুণে বেড়ে যায়। বেড়ে যায় নামাজের সংখ্যাও।
বিভিন্ন ব্যস্ততায় অনেকেই যারা ঘরে বা অফিসে বিলম্বে সালাত আদায় করে নিত। আজ তারা বড় আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে সেজে গুজে খুব তাড়াতাড়ি মসজিদে এসে উপস্থিত।
এশার দুই রাকাত সুন্নত সালাত আদায়ের পর তারাবির সালাত আদায় করা হয়। দুই দুই রাকাত করে দশ সালামে বিশ রাকাত সালাতে কুরআন কারিম থেকে ধারাবাহিক তিলাওয়াত করা হয়। কোথাও এক পাড়া কেথাও দুই পারা আবার কোথাও পাঁচ পারাও পর্যন্ত তিলাওয়াত করে কুরআন খতম করা হয়।
হিম্মতহীন এমন কম মুসলমানই হবেন যারা পূর্ণ কুরআন শ্রবণ না করে ছোট ছোট কয়েকটি সূরার মাধ্যমে তারাবিহকে সীমিত রাখে। তুখোর মেধার এমন অনেক হাফেজ বিদ্যমান যারা দশ পনেরো পাড়া এক রাতেই শুনিয়ে দেয়।
কোথাও কোথাও তো পূর্ণ রাত কাটিয়ে দেওয়া হয় তারাবিহ’র সালাতে তিলাওয়াতে। অসংখ্য অগণিত মুসলমান বড় আগ্রহ উদ্দিপনার সাথে তারাবিহ’র সালাত আদায় করে থাকে।
কোথাও এক ঘন্টা কোথাও দুই ঘন্টা, কোথাও তিন বা চার ঘন্টা পর্যন্ত কুরআনের তিলাওয়াতে কাটিয়ে দেয়।
ভোর রাতে সুবেহ সাদিকের পূর্বে কিছু পানাহার করে নেওয়া হয়। যেন দিনভর পানাহারের যাতনা থেকে মুক্তি লাভ করা যায় এবং রোজায় শক্তির সঞ্চার ঘটে।
শরিয়তের পরিভাষায় একে সাহুর বা আঞ্চলিক ভাষায় সেহেরি বলে। পানাহারের এই আমলটি সুন্নত। এটি পালন করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দসই খাবার পরিবেশিত হয়। কম বেশিও হতে পারে। হরেক রকমও হতে পারে।
তবে সুবেহ সাদিকের পূর্বেই পানাহার সম্পন্ন করতে হবে। সতর্কতা বসত কেউ কেউ নির্ধিষ্ট সময়ের পূর্বেও সম্পন্ন করে থাকে। ব্যস রোজা শুরু হয়ে গেল। এখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও জৈবিক চাহিদা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
রমজান আওর উস্ কে তাকাযা অবলম্বনে- আশরাফ আলম কাসেমী নদভী