শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল সেতু

অনলাইন ডেস্ক:   |   রবিবার, ২৭ জুন ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ২৩১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার দোভাষীপাড়া সেতু নির্মাণকাজ শেষের আগেই শনিবার সকালে ধসে পড়ে।

দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার দোভাষীপাড়া এলাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি সেতু ধসে পড়েছে। আজ রোববার সকালে নির্মাণাধীন সেতুর দুটি গার্ডার ধসে পড়ে। ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ না করায় সেতুটি ধসে পড়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নকশায় ত্রুটি থাকার কারণে এটি ধসে পড়েছে বলে দাবি করেছেন।

কুয়াকাটা পৌরসভা সূত্র জানায়, কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপখালী খালের ওপর ২ কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৮ টাকা ব্যয়ে এই সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে পৌরসভা। এটির নাম দোভাষীপাড়া সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৬৫ ফুট এবং প্রস্থ ৩১ ফুট। সৈয়দ সোহেল ও দ্বীপ এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ২০২০ সালের ২৬ জুন কার্যাদেশ পেয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। এক বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। চলতি বছর জুলাই মাসে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা।

গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে পড়া সেতু এলাকায় স্থানীয় লোকজনের ভিড়। মূল সেতু দুটি গার্ডারসহ ধসে খালে পড়ে রয়েছে। এ সময় মো. শফিকুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকাল পৌনে আটটার দিকে হঠাৎ সেতুর গার্ডার ধসে পড়ে। এ সময় ধসে পড়ার শব্দ শুনে তাঁরাও এখানে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ‘সেতুটি মাত্র দুটি গার্ডারের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। সেতু নির্মাণে পাইলিং ঠিকভাবে করা হয়নি। আমরা স্থানীয় ব্যক্তিরা সেতু নির্মাণকালেই এই বিষয়গুলো বললেও ঠিকাদারের লোকজন শোনেননি।’

কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আশরাফ আলী সিকদার বলেন, ‘৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়া ও দোভাষীপাড়াকে যুক্ত করবে এই সেতু। জনগুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় অগ্রাধিকার দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো গুণগতমান ঠিক না রেখে কাজ করায় কাজ করতে বাধা দিয়েছিলাম। বিষয়টি পৌরসভার সভায় উত্থাপন করেছিলাম। আমার আশঙ্কাই এখন সঠিক হলো।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বীপ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘২৭ দিন হয়েছে সেতুর গার্ডার ঢালাই এবং ২৩ দিন হয়েছে সেতুর স্লাব ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এরপরও ধসে পড়ল। আসলে সেতুর নকশায় ত্রুটি রয়েছে। যেখানে ২০ থেকে ৩০ ফুট দীর্ঘ সেতুতে ৩টি গার্ডারের প্রয়োজন, সেখানে ৬৫ ফুট দীর্ঘ সেতুর নকশায় মাত্র ২টি গার্ডার রাখা হয়েছে। আমরা প্রকল্পের প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, কোনো সমস্যা হবে না।’

কুয়াকাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, সেতু নির্মাণে কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা দেখা হবে। প্রকৌশলীদের না জানিয়ে সেতুর ঢালাইয়ের নিচের সেন্টারিং কেন খুলে ফেলা হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি বলেন, সেতুর ওই এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি স্থানীয় ব্যক্তিরা নালা কেটে কচ্ছপখালী খাল দিয়ে অপসারণ করার ফলে পানির চাপে সেতুর সেন্টারিং ধসে যায়। ফলে সেতু দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।

কুয়াকাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মীজানুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, এগুলোকে আর্চ সেতু (খিলান) বলে। এ ধরনের সেতুকে আবার টানা সেতুও বলা হয়। নকশা অনুযায়ী এ সেতুর ইনভার্টেড বিম ও গার্ডার থাকবে দুটি এবং দুটি আর্চের (খিলান) ওপর মূল সেতু নির্মিত হবে।

কেন ধসে পড়ল, তার কারণ ব্যাখ্যা করে মীজানুজ্জামান আরও বলেন, ‘সেতুটির কাজ চলমান ছিল। সেতুটির ইনভার্টেড বিম ওপরের দিকে দেড় ফুট ও নিচের দিকে দেড় ফুট থাকবে। ইনভার্টেড বিমের ওপরের দেড় ফুট অংশে ঢালাই দেওয়া হয়নি। আর্চেও ঢালাই দেওয়া হয়নি। তবে এগুলোতে রড লাগানো হয়েছিল। এই কারণে লোড সামলাতে না পারায় সেতুটি হঠাৎ করে ধসে পড়েছে। এ ব্যর্থতা পৌর কর্তৃপক্ষের নয়। এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বীপ এন্টারপ্রাইজকে নিতে হবে। আমরা এ জন্য ঠিকাদারকে শোকজ করেছি।’

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেতুটি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল। বিষয়টি প্রকল্পের পরিচালককে জানানো হয়েছে।

কুয়াকাটা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু ধসে পড়ার খবর পেয়েছি। সেতুর ওপরে টানা থাকার কথা। এ ছাড়া সেতুর ওপরের বড় একটি অংশ ঢালাই না করে সেন্টারিং সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখছি। ঠিকাদারই ভাঙা গার্ডার মেরামত করে সেতুটি নির্মাণ করে দেবে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office