আ ফ ম সিরাজুল ইসলাম (শামীম), এবিআইএ, এমআইআরএম (ঢাঃবিঃ) | সোমবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২২ | প্রিন্ট | ৫৭৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে সর্বদা দূর্ঘটনা ও মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পথ চলতে হয়। দূর্ঘটনা মানব জীবনের নিত্যসঙ্গী। বিশেষত রাস্তা-ঘাটে চলাচলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দূর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকে। প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুবরন করে অথবা পঙ্গুত্ববরণ করে। ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এদের একটা বড় অংশ পরবর্তীতে সমাজের বোঝা হয়ে দাড়ায় এবং ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেয়। আহতদের অধিকাংশই সুচিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ব বরন করে। এভাবেই দেশের কর্মক্ষম জনশক্তি নষ্ট হয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বোঝা হয়ে উঠে, হঠাৎ করে একটি পরিবার সচ্ছল অবস্থা থেকে হত-দরিদ্র অবস্থায় পতিত হয়। জানুয়ারী ০৯, ২০২২ তারিখে দৈনিক বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিগত ০৩ (তিন) বছরের সড়ক দূর্ঘটনার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে সড়ক দূর্ঘটনা হয় যথাক্রমে ৪৬৯৩, ৪৭৩৫ ও ৫৩৭১ টি এবং উক্ত দূর্ঘটনাসমূহে নিহত হয় যথাক্রমে ৫২১১, ৫৪৩১ ও ৬২৮৪ জন মানুষ। দূর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা উল্লেখ না থাকলেও এটা সহজেই অনুমেয় আহতের সংখ্যা নিহতের সংখ্যার কয়েকগুন হবে। পাশাপাশি, কল-কারখানায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ, রিক্সা, অটোরিক্সা ও ভ্যান চালক’সহ ঝুঁকিপূর্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা অহরহই বিভিন্ন দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে জীবন হারায় বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খায়, কূলে ভিড়ার কোন উপায় খুঁজে পায়না। আজকাল টেলিভেশন ও পত্র-পত্রিকা খুললেই বিভিন্ন কারখানায় অগ্নি দূর্ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায় (যেমন কিছুদিন পূর্বে নারায়নগঞ্জের প্লাস্টিক ফ্যাক্টরীর অগ্নি দূর্ঘটনা)।
দূর্ঘটনাজনিত উদ্ভুত সমস্যাবলী লাঘবে সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরী করা আবশ্যক। উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বিশাল এ জনগোস্টীর জীবনযাত্রা নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত উন্নয়ন নিতান্তই সময় সাপেক্ষ বিষয়। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পর্যায়ের মানুষজন সকল ঝুঁকি মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে মাঠে-ঘাঠে ছুটে বেড়াতে হয়। এ শ্রেণীর লোকজন উন্নত জীবন ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত যানবাহন, সুপরিসর ও নিরাপদ কর্মস্থল প্রভৃতি থেকে যোজন-যোজন দূরত্বে অবস্থান করে। এসব সুবিধা তাদের জন্য আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। তাদের পক্ষে ঝুঁকিমুক্ত জীবন-যাপন করা অসম্ভব ও অবাস্থব। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পর্যায়ের মানুষজন দীর্ঘ মেয়দী জীবন বীমা পলিসি গ্রহণ করে নিজেদের অর্থনৈতিক সুরক্ষিত রাখতে একেবারেই সক্ষম নয়, কেননা তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা এ মৌলিক চাহিদা মিটাতেই অনেক সময় অক্ষম হয়ে পড়ে। তবে, এক্ষেত্রে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন সমাজের অবহেলিত, দরীদ্র, শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের অসহায়ত্ব বিবেচনায় দূর্ঘটনার ক্ষয়-ক্ষতি পূরণার্থে সর্বসাধারনের জন্য উপযোগী বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমা পলিসি প্রবর্তন করেছে। এ পলিসি গ্রহণের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১১৫.০০ (একশত পনের) টাকা ব্যয় করে ২,০০,০০০.০০ (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরন পেতে পারেন। যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার একটা বাঁচার অবলম্বন পায়। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম হয়। বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমার সফল প্রয়োগে ব্যক্তি পর্যায়ে ভিক্ষাবৃত্তি ও হঠাৎ করে হতদরীদ্র হওয়ার হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে। ফলশ্রুতিতে সমাজ তথা রাষ্ট্রের বোঝার ভার লাঘবের মাধ্যমে সুন্দর ও গতিশীল সমাজ ব্যবস্থা কায়েম হবে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শোষিত ও বঞ্চিতদের পক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর জন্মশত বার্ষিকীতে তাঁর নামে এ বীমা পলিসি নামকরন করায় একে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। পরিশেষে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমা একটি শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।