বুধবার ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী দেশের আরও ১০ জেলায় রেল সংযোগ চালু করা হবে : রেলমন্ত্রী গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী নয়টি সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠানে আইডিআরএর পরিদর্শন অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাবো: অর্থমন্ত্রী ধর্ষণের কোনো ছোট-বড় বা ভিন্ন ডেফিনেশন হয় না, সবই সমান অপরাধ : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর কর বৃদ্ধি ও নতুন গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পেশ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের নৌ বীমা দাবি পরিশোধ করল কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স
Advertise with us

মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর ও নিহতের ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

অনলাইন ডেস্ক:   |   শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ১৫৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

ছবি:  পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন। আজ শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে

মন্দির, পূজামণ্ডপ, দোকানপাট, বাসাবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট এবং নিহতের ঘটনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। নোয়াখালী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

আজ শনিবার বিকেল চারটায় ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির সদস্যসচিব পাপ্পু সাহা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি নোয়াখালীর চৌমুহনীসহ সারা বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক কর্মকাণ্ড—ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যার বিষয়ে পরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য তাঁদের হতবাক করেছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য খুনি ও দুষ্কৃতকারীদের আড়াল করবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। মন্ত্রীর এই বক্তব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে আরও আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় কেউ ধর্ষিত হননি এবং একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ কিংবা ধ্বংস করা হয়নি। ধর্মীয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন মুসলমান, আর তাঁরা হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুজন হিন্দু মারা যান, তাঁদের মধ্যে একজনের সাধারণ মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ডুবে মারা গেছেন।

গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতি ফলাও করে প্রকাশ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইমস নাউ, হিন্দুস্তান টাইমসসহ ভারতের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর বেলা দুইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দুষ্কৃতকারীরা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ১১টি মন্দির, পূজামণ্ডপসহ বেশ কয়েকটি দোকান ও ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। দুষ্কৃতকারীরা বিজয়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরের সদস্য যতন সাহাকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং ইসকনভক্ত প্রান্ত চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে পুকুরে ফেলে দেয়, যার লাশ পরদিন সকালে ইসকন মন্দির-সংলগ্ন পুকুরে ভেসে ওঠে, যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যম ঘটনার ভয়বহতা দেশবাসীকে অবহিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চৌমুহনী আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করব, আপনি চৌমুহনীতে এসে দেখে যান ঘটনার ভয়াবহতা। আর কী হলে আপনি স্বীকার করবেন মন্দিরে ভাঙচুর হয়েছে ও মানুষ খুন হয়েছে? আপনার বক্তব্য আমাদের ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সহযোগিতাসহ ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, ব্যক্তি তথা অসহায়দের পাশে দাঁড়াবেন; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবেন এবং বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতকে শক্তিশালী করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা আহ্বায়ক বিনয় কিশোর রায়। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসকনের অধ্যক্ষ রসপ্রিয় দাস অধিকারী, হামলার ঘটনায় নিহত যতন সাহার স্ত্রী লাকি সাহা, যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস, বিজয়া দুর্গামন্দিরের সভাপতি তাপস সাহা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন যতন চন্দ্র সাহার স্ত্রী লাকি সাহা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো কোনো ধর্মকেই অসম্মান করি না। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। আমি না হয় আমার জীবন চালাব। কিন্তু আমার এই ছোট্ট ছেলেকে কীভাবে বলব, তার বাবার কী হয়েছে। আজকে যে তার বাবার শ্রাদ্ধ হয়েছে, সে তো বুঝতেই পারে কী হয়েছে। সে জানতে চায়, বাবা কখন আসবে। আমি ছেলেকে বলতেও পারব না, “আমরা সবাই এক। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” এই কথা আর কখনো আমার মুখ দিয়ে আসবে না।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার ঘটনার জেরে ১৩-১৫ অক্টোবর নোয়াখালীর হাতিয়া, বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় হিন্দুদের মন্দির, পূজামণ্ডপ, দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হন দুই ইসকনভক্ত। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় মোট ২৯টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে এ পর্যন্ত ২১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office