নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একইসঙ্গে ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষতানির্ভর ও যুগোপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত বছর শিক্ষা খাতে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ ৩ দশমিক ৫, ৪ এবং পরে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরং প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে প্রকল্পভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বাস্তব দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জনশক্তির সংকট থাকলেও বাংলাদেশে বিপুল জনসম্পদ রয়েছে। এ সম্পদকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর বর্তায়।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (টিভেট) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এ খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। পরে তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।