নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে এনসিপির স্থানীয় এক নেতাকে পিটুনি দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত। পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় পরীক্ষা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙ্গার কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত এনসিপি নেতার নাম মো. আশরাফ হোসেন (২৮)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক এবং ভাঙ্গা পৌরসভার নূরপুর মহল্লার বাসিন্দা।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে জীববিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে আশরাফ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তার হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি পরীক্ষার দিনই তিনি কেন্দ্রে ঢুকে বিভিন্নভাবে তাকে সহায়তা করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালেও পরীক্ষা শুরুর আগে হলে প্রবেশ করলে একই কক্ষে পরীক্ষার্থী সাজিদ ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করে। এ সময় আশরাফ দলীয় পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখান এবং শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ ও ধাক্কা দেন। এর প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ছেড়ে বের হয়ে আশরাফকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আশরাফ দৌড়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় এগিয়ে আসা প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত ও একজন শিক্ষার্থী ইটের আঘাতে আহত হন।
পরে শিক্ষার্থীরা আশরাফের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরীক্ষা বর্জন করে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়।
আহত পরীক্ষার্থী সাজিদ ইসলাম জানায়, এনসিপির ওই নেতা প্রতিদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন। এ কারণে পরীক্ষার্থীরা আগে থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
আহত প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব অরুণ চন্দ্র দত্ত জানান, আশরাফের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে ইটের আঘাতে তিনি আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এনসিপি নেতার সঙ্গে ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীর আংটি বদল হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষার দিন তিনি তাকে আনা-নেওয়া করতেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর আগে হলে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোলযোগ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তবে আশরাফ দাবি করেন, তিনি কেবল হবু স্ত্রীকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী, যারা পরীক্ষা দিতে এসেছিল, তারা আমার হবু স্ত্রীকে ইভটিজিং করে। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর চড়াও হয়।