নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৬নং আলীনগর ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গনি (NID: 19715815619000008) ও রুমা বেগমের (NID: 5815619985997) ছেলে ফাহিমুল ইসলাম (২৪) (পাসপোর্ট নং: EH0057567)-এর বিরুদ্ধে চাচার পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট গ্রহণ, ইতালিতে অবস্থানকালে অর্থ আত্মসাৎ, ইতালিতে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং দেশে ফিরে গোপনে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ফাহিমুল ইসলাম মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। ওই পাসপোর্টে তিনি নিজের প্রকৃত মা–বাবার পরিচয় গোপন রেখে ইতালি প্রবাসী চাচা মো. আমিনুল ইসলামকে পিতা এবং চাচি শামসুন নাহারকে মাতা হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে দালালের মাধ্যমে তিনি ইতালিতে পাড়ি জমান।
অভিযোগ রয়েছে, ইতালিতে পৌঁছে তিনি প্রথমে চাচার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরির একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে সেই অর্থ দেশে তার প্রেমিকার কাছে পাঠান বলে অভিযোগকারীদের দাবি। বিষয়টি চাচার নজরে এলেও ভাতিজার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি তখন কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেননি বলে জানা গেছে।
তবে এর পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, ইতালিতে চাচার গড়ে তোলা দুটি বাড়ির একটি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ফাহিমুল ইসলাম চাচার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এমনকি নিজেকে চাচার ছেলে দাবি করে সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইতালি থেকে দেশে ফিরে ফাহিমুল ইসলাম কাউকে কিছু না জানিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ সালে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার তারাপাশা এলাকার পণ্ডিতনগর গ্রামের মরহুম গফুর মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারকে সমাজ ও আত্মীয়স্বজনের অগোচরে বিয়ে করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইতালি প্রবাসী চাচা মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ভাতিজার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ইতালির আইনগত সহায়তা গ্রহণ করিনি। কিন্তু আমার একটাই দাবি—সে যেন তার পাসপোর্ট থেকে আমার এবং আমার স্ত্রীর নাম অপসারণ করে। আমার ১টি মাত্র ছেলে সে ছোট বেলা হতে ইতালিতে বসবাস করছে। তাকে ছাড়া আমাদের আর কোনো সন্তান নেই। ফাহিম আমার ভাতিজা সে আমার ছেলে পরিচয় দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হোক, আমরা তা চাই না।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।