অনলাইন রিপোর্ট: | শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১ | প্রিন্ট | ২০০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফাইল ছবি।
করোনা পরিস্থিতির কারণে আইনে নির্ধারিত সময়ে আপিল বা মামলা করতে পারেননি কেউ কেউ। এমন ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ এড়াতে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আপিল বিভাগ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আজ শনিবার এ বিষয়ে বলেন, এর ফলে দেরিতে আবেদন, মামলা ও আপিল দায়েরের কারণে ভুক্তভোগী বা সংক্ষুব্ধপক্ষের মামলাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
‘বাংলাদেশ সরকার বনাম আলী কামরান রেজা’ শিরোনামে এক মামলায় (লিভ টু আপিল) ১৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ ওই সময় বেঁধে আদেশ দেন। আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওই আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়, ৫ এপ্রিল বা এরপরে সময় শেষ হওয়া সাধারণ ও বিশেষ আইনের অধীন দেওয়ানি, ফৌজদারি বা প্রশাসনিক বিষয়ে পিটিশন, আবেদন, আপিল, রিভিশনসহ অন্যান্য কার্যধারা দায়েরে সময়সীমা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
এদিকে হাইকোর্টের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চে যেসব আবেদন দায়ের করা হয়েছে, সেগুলো অবশ্যই ৩১ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে যথাযথ নিয়মিত বেঞ্চে দায়ের করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এতে ব্যর্থ হলে ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে থাকলে, তা তাৎক্ষণিক বাতিল এবং আবেদনগুলো খারিজ হবে। সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আপিল বিভাগ বলেছেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে এ আদেশ সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের জন্য মানা বাধ্যতামূলক।
ইতিপূর্বে এক মামলায় গত বছরের ৬ আগস্ট আপিল বিভাগ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসমূহের মেয়াদ গত বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে ওই লিভ টু আপিলের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এরপর আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। সম্পূর্ণ লকডাউনের আগে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যক্রম চলে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলো এবং পিটিশন, আবেদন, আপিলসহ ইত্যাদি দায়েরে সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।
আদেশে আদালত বলেছেন, ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতায় মনে রাখতে হবে যে কোভিড–১৯ শিগগিরই শেষ হবে, তেমন নিশ্চয়তা নেই। বিচারপ্রার্থীদের অধিকার নিশ্চিত ও সময়সীমার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা দায়িত্ব। বিশেষ এই পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের জন্য বিদ্যমান আইনগুলো অবশ্যই দেখতে হবে। বিদ্যমান আইন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে বিশেষ আইনে নির্ধারিত সময় বাড়ানোর ক্ষমতা দেয়নি।
জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল, অর্থ ঋণ ও চেক প্রত্যাখ্যানসংক্রান্ত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টে মামলা বা আবেদন দায়েরে সময়সীমা নির্ধারিত আছে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায়ও রিভিশন, আপিল, আবেদন দায়েরে সময়সীমা নির্ধারিত আছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে অনেক বিচারপ্রার্থী ও সংক্ষুব্ধপক্ষ নির্ধারিত সময়ে এসব দায়ের করতে পারেননি। কেননা, তখন সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। বিচারপ্রার্থী ও সংক্ষুব্ধপক্ষের দুর্ভোগ এড়াতে ও সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে আপিল বিভাগ মামলা ও আবেদন দায়েরে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এতে তামাদি অর্থাৎ দেরিতে আপিল, মামলা ও আবেদন দায়েরের কারণে ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধপক্ষের মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।