সারাদেশ ডেস্ক | রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ১৪১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
নানুয়াদীঘির পাড়ে গত বছরের ১৩ অক্টোবর একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখে অবমাননার ঘটনায় সহিংসতা ছড়ায় কুমিল্লা নগরী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এবারও আলোচিত সেই নানুয়াদীঘির পাড়ের ওই পূজামণ্ডপে পূজার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই দিনে হামলা হয় নগরীর আরও ৪টি মণ্ডপে। হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে জন্য এবার মহানগরসহ জেলার সবক’টি মণ্ডপে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাশকতা এড়াতে প্রতিটি মণ্ডপে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তবে এতসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঝেও হিন্দু সম্প্রদায়সহ মণ্ডপসংশ্নিষ্ট কুমিল্লা ও নোয়াখালীর মানুষের মাঝে ভয় ও শঙ্কা কাটছে না। এদিকে, কুমিল্লার মণ্ডপে গত বছরের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা ১২টি মামলার মধ্যে আদালতে ৬টির চার্জশিট দাখিল হয়েছে। আরও ৬টি মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। এসব মামলার তদন্ত করছে সিআইডি, পিবিআই ও থানা পুলিশ। এদিকে জেলার এবার ৭৯৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এ মণ্ডপ কমিটির সভাপতি অচিন্ত্য দাস টিটু বলেন, এই অস্থায়ী মণ্ডপ থেকে শহরে সহিসংতা ছড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ইকবাল ছাড়া সবাই এখন জামিনে মুক্ত আছেন। সরকার এ বছর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে গত বছরের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়াদীঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখে অবমাননার ঘটনায় সহিংসতা ছড়ানো হয়। এ ঘটনার মূল হোতা মো. ইকবালসহ অনলাইনে উস্কানি ছড়ানোর দায়ে বেশ কয়েকজনকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১২টি মামলা হয়। এসব মামলার তদন্ত করছে সিআইডি, পিবিআই ও থানা পুলিশ। এর মধ্যে ৬টি মামলার চার্জশিটে ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাস দমন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও বিস্ম্ফোরক আইনের মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
সিআইডি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, তাঁদের কাছে থাকা ৬টি মামলার মধ্যে ৫টির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পিবিআই-কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তাঁদের হাতে থাকা ৪টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় একজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান জানান, গত বছরের পূজামণ্ডপকাণ্ডে দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। এ দুটি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, পূজামণ্ডপ ঘিরে সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয় মাথায় রেখে এ বছর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শঙ্কার মধ্যে নোয়াখালীতে ১৮০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব শুরু গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লা শহরে একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ, হিন্দুদের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় শঙ্কার মধ্য দিয়ে নোয়াখালীতে ১৮০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। ওই হামলার ঘটনায় ৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় পুলিশ ৩২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার ফলে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা ও পূজার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর দুর্গোৎসব চলাকালীন সময় বিভিন্ন উপজেলায় পূজামণ্ডপ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হতাহতের ঘটনায় মোট ৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ১৬টি এবং ক্ষতিগ্রস্তরা বাদী হয়ে ১৬টি মামলা দায়ের করেন। তাদের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১২৫ জন।
এসব মামলার মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নোয়াখালী কার্যালয় ১১টি, পিবিআই ১১টি ও নোয়াখালী জেলা পুলিশ ১০টি মামলা তদন্ত করছে। জেলা পুলিশের তদন্তাধীন ১০টি মামলার মধ্যে ৯টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পিবিআই ১১টি মামলার মধ্যে সবক’টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন। সিআইডি ১১ মামলার মধ্যে ৪টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন। বাকি ৭টি মামলা চার্জশিট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।