শিরোনাম
১৪ মাস পর ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক এনসিসি ব্যাংকের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু: ২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করেনি ভারত: স্পিকার এমডি-সিইওদের মূল্যায়নের হিসাব নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো জরুরি

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের মতিঝিলে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের মতিঝিলে অবস্থান

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে এবং শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন তারা।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। এর আগে টানা চারদিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।

অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে—‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন তারা।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অপচেষ্টা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক নুরুন্নবী আরও বলেন, অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধাগুলো সমন্বয় করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, পরে চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরির জন্য একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যারা ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকে বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত। কিন্তু আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের অনেকেই ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাই তাদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ফোরামের আপত্তি রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং তারা এস আলম গ্রুপের সময় ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর তাদের কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।’গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

টিপু আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে তারা তা মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office