সারাদেশ ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
দূর থেকে দেখে মনে হবে, সব ধান পেকে গেছে। আসলে মরে যাচ্ছে। চালকলের বিষাক্ত বর্জ্য ও কালো ছাইয়ে স্বপ্ন পুড়েছে কৃষকের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের ইছারচালা গ্রামের পাঁচ একর জমির আমন ধান। কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বায়ুদূষণের কারণেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে ৪ ডিসেম্বর ১১৩ জন ভুক্তভোগী ইউএনও ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও উপসনালয় ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে চালকল ডেইলি রাইস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। চালকলের বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানি নিস্কাশন করা হয় ফসলি জমিতে। ফলে পাঁচ একর জমির ফসল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। মরে যাচ্ছে গাছপালা। এ চিত্র প্রতি বছরের। দূষণ ঘটছে বায়ু ও শব্দেরও।
কৃষক ইউনুস আলী বলেন, ‘ক্ষেতের ধান সব তো গায়েব হইয়া গেছে। কোম্পানির পচা পানি ও ছাই আমাগো ধান ও গম ক্ষেত শেষ কইরা দিছে। কোম্পানি কয় জমি বেইচা এলাকা ছাড়তে।’
কৃষক শামছুল হকের দাবি, তাঁদের কথা কেউ শোনে না। তাঁদের মতো বিপাকে পড়েছেন এলাকার অনেক কৃষক। কষ্টে ফলানো ফসল গোলায় তুলতে পারছেন না। হচ্ছে বায়ুদূষণ। এলাকার মানুষের দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমাসহ নানা রোগ। চালকলের পাশেই বেতুয়াপাড়া ইছারচালা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল বারী জানান, ছাই উড়ে এসে পড়ে বিদ্যালয়ে। আরো আছে শব্দদূষণ। ফলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ইছারচালা গ্রামের বিবেকানন্দ বর্মণ বলেন, পরিবেশদূষণের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী এর আগেও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন; কাজ হয়নি। বরং কারখানা কর্তৃপক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ডেইলি রাইস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ। তিনি দাবি করেন, চালকলের দূষিত পানি ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকে কিছু পানি চুয়ে ফসলের জমিতে যায়। বাতাস হলে ছাই কিছুটা ওড়ে। তাদের সব ধরনের কাগজপত্র আছে।
ঘাটাইলের ইউএনও মোনিয়া চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।