শিরোনাম
সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান

গোপালগঞ্জে কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড়

সারাদেশ ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড়। নাম শুনলেই চমকে উঠবে যে কেউ। বিচিত্র নামের এই ষাঁড়গুলি কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোপালগঞ্জের কোরবানির হাট। নামের সাথে সাথে এদের আকার ও আকৃতির মিল রয়েছে। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় এই ষাঁড়গুলি থাকবে বলে মনে করছেন খামার মালিক গিয়াস উদ্দিন।

বুধবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে মাত্র ৪টি ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা গরু দিয়ে অগ্র ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু করেন। এখন তার এই ফার্মে গরুর সংখ্যা ৯০টি। এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় নামে চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন তিনি। প্রায় ৩০ মণ ওজনের টাইগার ও দুরন্তের দাম হেঁকেছেন ৮ লাখ টাকা করে আর প্রায় ২৮ মণ ওজনের রাজাবাবু ও ধলাপাহাড়ের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা করে। এই ষাঁড়গুলো দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতা, পাইকার ও দর্শনার্থীরা।

খামারের কর্মচারী সিরাজগঞ্জের শাহাদতপুর উপজেলার আইয়ুব আলী বলেন, টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় নামের এই ষাঁড়গুলোতে কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ও ইনজেকশন দেয়া হয়নি। এদের গমের ভুষি, কলাই ভুষি, ধান ভাঙ্গা, ছোলা ভাঙ্গা ও উন্নত জাতের ঘাসসহ দেশীয় খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন ষাঁড়গুলোকে গোসল করানো হয় ও পরিমাণ মতো খাবার দিতে হয়। তিনিসহ ১২ জন শ্রমিক এই খামারের ৯০ টি গরুর দেখাশুনা ও যত্ন করেন।

প্রতিবেশী মো. চাঁন মিয়া বলেন, এই খামারে কোরবানির ঈদের জন্য চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ষাঁড় দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শক, ক্রেতা ও পাইকার আসছেন। খামারের মালিক কোন রাসায়নিক পদার্থ ছাড়াই এই ষাঁড়গুলো লালন পালন করেছেন। ভাল দাম পাবেন মালিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নড়াইল জেলা সদরের আগদিয়া গ্রামের মো. আতাউর রহমান ও খুলনার পাইকগাছা থানার আমীরপুর গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ মন্ডল জানান, এই খামারে চারটি বিশালাকৃতির ষাঁড় আছে শুনে দেখতে এসেছেন। এর আগে এতো বড় ষাঁড় দেখেননি বলেও জানান তারা।

খামার মালিক গিয়াস উদ্দিনের চাচা আব্দুর রউফ বলেন, তার ভাইয়ের ছেলে এই খামারটি করেছেন। এই খামারে জন্ম হওয়া বাছুর (ষাঁড়) সে বিক্রি করে দেয়। শুধু বকনা বাছুর রাখে ও লালন পালন করে দুধের জন্য। এবার কোরবানি ঈদের জন্য চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছে তার ভাতিজা বলেও জানান তিনি।

অগ্র ডেইরি ফার্মের মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, এবারের কোরবানিতে চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। ষাঁড়গুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়েছি টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড়। টাইগার ও দুরন্তের ওজন প্রায় ৩০ মণ আর রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় এর ওজন প্রায় ২৮ মণ করে হবে। টাইগার ও দুরন্তের দাম চেয়েছি ৮ লাখ আর রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে টাইগার ও দুরন্তের দাম উঠেছে ৬ লাখ টাকা করে। তিনি জানান, ৭ লাখ টাকা করে দাম পেলে টাইগার ও দুরন্ত বিক্রি করে দিবেন। আর রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় ৬ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবেন।

তিনি বলেন, বেকার যুবকরা যদি এখান থেকে বাছুর নিয়ে কোরবানিকে সামনে রেখে ষাঁড় লালন পালন করে তাহলে তারা ভালবান হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আজিজ আল মামুন বলেন, জেলায় যে সব খামারি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামীতেও যারা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ষাঁড় প্রস্তুত করবেন তাদেরও সহযোগিতা করা হবে। এ বছর জেলায় খামার ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৩ হাজার পশু কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office