শিরোনাম
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করেনি ভারত: স্পিকার এমডি-সিইওদের মূল্যায়নের হিসাব নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো জরুরি গত পাঁচ মাসে হামের টিকা পেয়েছে প্রায় দুই কোটি শিশু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি শরীফপুর ইউনিয়নে শামছুল হকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

‘টাকায় কেনা হলো ভোট, পরে দেখা গেল সবই জাল নোট’

সারাদেশ ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১০৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৯টির প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই অর্থের বিনিময়ে গোপনে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তোলপাড়। তবে সরাসরি অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। হেরে যাওয়ার পর দু’একজন প্রার্থী আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘অর্থ না থাকায় ভোট কিনতে পারিনি, শেষপর্যন্ত জিততেও পারিনি।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী প্রার্থী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে নকল টাকা সরবরাহ করে ভোট কেনার গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য ভোটার নকল টাকা চালাতে না পেরে আক্ষেপ করেছেন। ফেঁসে যাবার ভয়ে অভিযোগ দেননি কেউই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও দু’একজন মন্তব্য করেছেন।

রায়গঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সেখ মোস্তফা নুরুল আমিন সোমবার ফেসুবুকে লেখেন, ‘আজ জেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের এক সদস্য প্রার্থী জেলা পরিষদ নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট আদায়ের কৌশল হিসেবে তালিকাভুক্ত ভোটার অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের টাকার বান্ডিল দিয়েছেন গত রাতে। আজ ভোট দিয়ে কিছু কেনাকাটা আর ফুর্তির জন্য বের হন তারা। কিন্তু পরখ করে দেখেন রাতের অন্ধকারে কেনা-বেচার সব টাকাই জাল। কয়েক মেম্বার তাদের সেই প্রার্থীকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জাল নোট যার কাছে পাওয়া যাবে তাকেই কিন্তু পাকড়াও করবে পুলিশ। এ কথা শুনে স্তব্ধ হন তারা। ভোট কেনা-বেচার বাজারে এভাবে কত কিছুই না ঘটছে।’

অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রার্থী সুমন সরকার রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। জেলা পরিষদের সদস্য পদে (বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর আগেও তিনি জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। ওই ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ‘জালনোটের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। তবে কে কাকে জাল টাকার বান্ডিল দিয়েছে সেটা জানা নেই।’

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজয়ী প্রার্থী সুমন সরকার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিপক্ষ এমন মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। কোনো ইউপি সদস্যকে জাল টাকার বান্ডিল দেইনি।’

রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাদি আলমাজি জিন্নাহ বলেন, ‘মূলত প্রক্রিয়া করেছি নারী ভোটার সংগ্রহে। এবার পুরুষ ভোটারদের নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথাই ছিল না। অর্থ খরচের বিষয়টিও অমূলক।’

সিরাজগঞ্জ পৌর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মো. খালেদ মোশারফ শাওন এবারের সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে হাতি মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনিসহ মোট পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাতিলও হচ্ছে এ ওয়ার্ডে। টিউবওয়েল প্রতীকে ৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক। খালেদ মোশারফ শাওন বলেন, ‘আমি সৎ শ্রমিকবান্ধব মানুষ। সততাই একমাত্র পুঁজি। অবৈধভাবে ভোট কেনার অর্থও আমার নেই। যদি অন্যদের মতো অঢেল টাকা খরচ করে অবৈধভাবে ভোট কিনতে পারতাম, তাহলে জিততেও পারতাম। জামানতও বাতিল হতো না।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে বলেন, ‘নির্বাচনে অর্থ লেনদের হয়ে থাকলেও আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই।’

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘জাল নোট দিয়ে ভোট কেনাবেচার বিষয়ে কেউই জানায়নি বা অভিযোগও দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office