| বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৯২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
এখন রমজান মাস। তাই রোজা রাখছি। ইফতার মা বাবার সাথে অত্যন্ত আনন্দের সাথে করি। আমার ছোট বোন রাফাননুম ও নিয়মিত ইফতার করে আমাদের সাথে। ইফতারের পর খেয়াল করলাম বাবা মা কি নিয়ে একটু চিন্তিত। আমি বললাম মা ও বাবাকে তোমাদের আজ এত চিন্তিত লাগছে কেন? মা বললেন, কই না তো কিছ্ ুনা। আমি মনে মনে বলি কী হয়েছে তাদের? এরকম শতশত প্রশ্ন আমার মাথায় তৈরী হচ্ছে। এরই মাঝে হঠাৎ আমার ছোট বোন রাফাননুম বলে, আপু কী ভাবছো তুমি, তখনই আমি থমকে উঠলাম। ওহ আমি তো ভয় পেয়েগেছিলাম। রাফাননুম বলে আপু তুমি কী ভাবছো আমাকে বলো। আমি যেন এবার একটি সমস্যায় পড়লাম রে বাবা। আমি আমতা আমতা করে তাকে বললাম, দেখ তুমি বুঝবানা। সে বলে ঠিক আছে যা ইচ্ছে ভাবো।
এরপর মা বললেন, দুষ্টু দুই বোন কি কর। এক্ষণি এসো প্লেট খালি হবে কখন। এই ডায়লগে মা আমাদের রাতের খাবার খেতে বললেন। এই কথা শুনে দৌঁড়ে গেলাম। খাওয়া শেষে মা বললেন, এই যে দুই বোন, তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাও এই কথা বলে মা বাবা অন্য একটি রুমে চলে গেলেন। দৌঁড়ে দুইজন গেলাম বিছানায় কিন্তু অনেক্ষণ হয়ে গেল মা বাবা এলোনা। এই চিন্তায় আমার ঘুম আসছে না। মনে মনে ভাবছি যে এতক্ষণ হলো মা বাবা এলো না কেন? এই সময় আমি শুনলাম মা বাবাকে বলছে তাড়াতাড়ি ব্যাগ গোছাও। এই সময় আমার মাথায় একটি দুষ্টুমি বুদ্ধি এলো। ভাবলাম তাহলে আমি একটু উঁকি মেরে দেখি। আমাদের রুমের পাশেই হলো খাবার রুম আর খাবার রুমের পাশেই তারা আছে। এই রুমের বাতি জ¦লছে। তাই উঁকি মেরে আমি সহজে দেখতে পাব তারা কি করছেন। উঁকি মেরে দেখি তারা লাগেজ গুছাচ্ছেন। মা আমাকে একটুকের জন্য দেখে ফেলতেন, উফ বাঁচলাম। কিন্তু তারা লাগেজ গুছাচ্ছেন কেন? এটা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম বুঝতে পারিনি।
হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙলো। বাবা মা বললেন, তাফাননুম ঘুম থেকে উঠো। আমি উঠি। দেখি মাত্র রাত এগারটা। বাবাকে বলি বাবা এত রাতে ডাকছো কেন? বাবা বললেন, মা তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে এসো পরে সব বলছি। আমি তো ভাবছি কী যে করবে আল্লাহই জানে। তারপর মা তাড়াতাড়ি করে বলেন যে জামা কাপড় পর। আমি মনে মনে বলছি এ বলে কি? বলে তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হও। ঠিক আছে এখন বলো এসব আয়োজন কেন? এসব উত্তর না দিয়ে মা আমাকে বললেন, পরে বলব। এরপর হঠাৎ গাড়ির শব্দ, বলি হুম তার মানে আমার কথাই সঠিক। আসলে আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে আমরা কোথাও ঘুরতি যাচ্ছি হয়তো। হ্যা আমার কথাই শেষ পর্যন্ত সঠিক এবং এর প্রামাণ আমি পেলাম কিভাবে বলছি। আসলে আমাদের গাড়িটা একদম স্টেশনের সামনে দাঁড়ায়। তাই এরকম ভাবনা এবং বাবা বলেন তোমরা ওয়েটিং রুমে বস আমি খাবার নিয়ে আসছি। এরপর বাবা বললেন তোমরা তাড়াতাড়ি ট্রেনে উঠ। বাবা দেখিয়ে দিলেন আমাদের সিট। যেহেতু আমরা পরিবারে চারজন। তাই বাবা চারটাই সিট নিয়েছেন। হঠাৎ বৃষ্টি নামলো আর ট্রেনও ছেড়ে দিল। উফ! কি সুন্দর। আমি আমার হেডফোনও নিয়ে এসেছি রোজার মাস। তাই সুরা শোনা যাবে। কিন্তু বাবা এখনো বলেননি আমরা কোথায় যাচ্ছি। সুরা শোনেশোনে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। এরপর কখন যে রাতের শেষভাগে চলে এসেছি অর্থাৎ ৩ টা বেজে গেল তা আমি নিজেই জানিনা। যাই হোক মা গ্রামীন ফোন দেখেন যে কখন সেহরী করব। কিছুক্ষনের মধ্যে সেহরীর সময় হয়ে গেল। সেহরী করলাম। কিন্তু এখনো বাবা ও মা বলেনি যে আমরা কোথায় যাচ্ছি। হ্যা আমার মনে হয় আমার কথাই সঠিক কারণ ট্রেনটা ওদিকে যাচ্ছে। আমি প্রথম থেকেই ভাবছিলাম হয়তো ঈদ উপলক্ষে আমরা সবাই দাদুর বাড়ি যাচ্ছি।
*তাফাননুম মাহমুদ *, পঞ্চম শ্রেণী, মুগদাপাড়া কাজী জাফর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।