সারাদেশ ডেস্ক | শুক্রবার, ০৮ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট | ১০০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
ভোলার চরফ্যাসনে ঈদুল আযহা উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আবুবক্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ জামাদারের বিরুদ্ধে। প্রত্যেক হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও মাস্টাররোলে টিপ সই নিয়ে সাড়ে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
এ সময় সাংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদার চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে আবুবক্করপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারী ৭১৬ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ৭.১৬০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ হয়। ওই চাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিতরণ করার কথা থাকলেও আবুবক্করপুর ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় শুক্রবার। আর বিতরণকারী কর্মকর্তার অনুপস্থিতেই শুক্রবার চাল বিতরণকালে সুবিধাভোগী পরিবারের কাছ থেকে মাস্টাররোলে টিপ সই নিয়ে ১০ কেজি চালের পরিবর্তে সাড়ে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
এদিকে ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে ৭ কেজি চাল দেয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সুবিধাভোগীদের মধ্যে। চাল বিতরণের অনিয়মের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা সুবিধাভোগীরা।
শুক্রবার সরেজমিনে ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে ৭ কেজি বিতরণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদকর্মীরা বিতরণ করা চাল পরিমাপ করে সাড়ে ৭ কেজি করে বিতরণের সত্যতাও পেয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চালের মধ্যে তারা পেয়েছেন সাড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি। আর চাল কম পাওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে পরবর্তীতে আর চাল দেবেনা বলে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউপি সদস্যরা জানান, কার্ডধারী ৭১৬ জনের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হলেও সকল হতদরিদ্র কার্ডধারী চালের সুবিধা পায়নি। নাম মাত্র চাল বিতরন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওজনেও সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। বরাদ্দকৃত বাকি চাল কোথায় গেছে তা তাদের জানা নাই।
চাল বিতরনে নিয়োজিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, অনিয়মের বিষয়টি তার জানা নাই তবে খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদার কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, হতদরিদ্রদের ঈদ ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম করলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।