শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঝরনা যেন মৃত্যুকূপ

সারাদেশ ডেস্ক   |   শনিবার, ০৯ জুলাই ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৯৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঝরনাগুলো দিন দিন যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে বেড়াতে এসে ঝরনার কূপে পড়ে ১২ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা শতাধিক। সবশেষ গত ২০ জুন খইয়াছড়া ইউনিয়নের নাপিত্তাছড়া ঝরনায় ডুবে মৃত্যু হয় দুই ভাইসহ তিনজনের। পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতার অভাবেই ঘটছে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝরনাগুলোর ইজারাদারের গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে ঝরনাগুলোতে প্রচুর পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত পাঁচ বছরে এ এলাকার ঝরনায় ডুবে মৃতদের মধ্যে ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর নাপিত্তাছড়ায় সাঁতার কাটতে নেমে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহাদাত হোসেন মারা যান। ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট একই ঝরনায় অনিমেষ দে নামে একজন, ২৪ আগস্ট বড়তমলদহ রূপসী ঝরনায় পাহাড়ের ওপর থেকে পা পিছলে পড়ে সাইফুল ইসলাম নামে একজন মারা যান। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল নাপিত্তাছড়া ঝরনায় আশরাফ হোসেন নামে এক পর্যটক, ২৮ জুন একই ঝরনায় আনোয়ার হোসেন নামের আরেক পর্যটক, ১৭ জুলাই মহামায়া লেকের পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে শাহাদাত হোসেন, ২৬ জুলাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি তুলতে গিয়ে প্রকৌশলী আবু আলী হোসাইন মেমোরী, ১৫ আগস্ট রূপসী ঝরনায় পড়ে প্রকৌশলী মোহেদী হাসান ও ৪ সেপ্টেম্বর খইয়াছড়া ঝরনায় পা পিছলে পড়ে ফয়েজ আহমদ নামে এক পর্যটক মারা যান। ওই সময় আহত হন আরও চারজন।

স্থানীয় গাইড, বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের খইয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, বাওয়াছড়া ও রূপসী ঝরনা। প্রতিনিয়ত এসব ঝরনা এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তবে ঘুরতে এসে ঝরনা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি তোলা, বর্ষার সময় পিচ্ছিল পথ বেয়ে ওপরে ওঠা, সাঁতার না জানা সত্ত্বেও পানিতে নামা, গভীরতা না জেনে পাহাড়ের ওপর থেকে ঝরনার কূপে লাফ দেওয়া এবং বৃষ্টির সময় স্রোতের গতিবিধি বুঝতে না পারার কারণে পর্যটকরা একের পর এক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পর্যটকস্থান হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় ২০২১ সালে বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের অধীনে থাকা মিরসরাইয়ের খইয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া ও সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা ঝরনা ইজারার আওতায় এনেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ। ঢাকার টিএসআর ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২৮ লাখ টাকায় ঝরনাগুলো এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পর্যটকপ্রতি প্রবেশ ফি ২০ টাকা আদায় করলেও দুর্ঘটনা রোধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ঝরনাগুলোর ইজারাদার আনিছুর রহমানের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর ঝরনা এলাকায় পর্যটকদের সচেতন করতে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়ে প্ল্যাকার্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকরা তা মানেন না। প্রতি ঝরনায় প্রশিক্ষিত গাইড রয়েছে। পর্যটকরা তাঁদের সহযোগিতা নিতেও রাজি হন না।

নাপিত্তাছড়া ঝরনা দেখতে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মিলন দাস ও আরিফুজ্জামান জানান, খইয়াছড়া ঝরনার প্রথম ধাপ সমতল থেকে প্রায় ৭০ ফুট ওপরে। বৃষ্টির কারণে ঝরনা পথের পাথরগুলো পিচ্ছিল হয়ে আছে। কোনো কারণে পা পিছলে পড়লে যে কেউ মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হবে। ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেক পর্যটক এখানে আসতে পারেন। তাই আগে থেকেই ইজারাদার ও বন বিভাগের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

খইয়াছড়া ঝরনা এলাকায় পর্যটক গাইড শাখাওয়াত হোসেন জানান, বৃষ্টির সময় ঝরনার পথগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। এ ছাড়া স্বাভাবিক সময়েও কয়েকটি পথ পাড়ি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। না জেনে পর্যটকরা ওই সব পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিপদে পড়েন। প্রায়ই দেখা যায়, ঝরনা দেখতে এসে সাঁতার না জেনেও কুপে লাফ দেন পর্যটকরা। কেউ কেউ পাহাড়ের ওপর থেকে পানি পড়ার দৃশ্যসহ ছবি তুলতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দাঁড়ান। এতে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

সুমন ত্রিপুরা নামে আরেক গাইড জানান, নাপিত্তাছড়া ঝরনায় কলসি কূপে পড়লে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। এই ঝরনায় প্রায় সব দুর্ঘটনা কলসি কূপেই হয়েছে। তাই পর্যটকদের সচেতন হওয়া এবং স্থানীয় গাইডদের সহায়তা নিয়ে ঝরনা দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন বলেন, পাথর ও পথ পিচ্ছিল হওয়ায় মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলো পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গাইড ছাড়া কোনো পর্যটক যেন ঝরনা এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেই বিষয়ে ইজাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা রোধে ওপরের ধাপগুলোতে ওঠার পথ বন্ধ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office