নিজস্ব প্রতিবেদন ডেস্ক | রবিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি - প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি সড়কের কালভার্ট ভেঙ্গে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে শহরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ৬টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের।
কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়লে সেখানে বিকল্প কিছু না করার কারনে চারটি চা বাগান, দুইটি খাসিয়া পুঞ্জি ও ১টি গারো পল্লীর মানুষজন শহরের সাথে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। শহরে আসার বিকল্প রাস্তা থাকলেও তা অনেক ঘুরে আসতে হয়, তাতে জনসাধারণের যাতায়াত খরচ অনেক বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের কালিঘাট-ধলই সড়কের কালিঘাট চা বাগানের ১৬ নম্বর সেকশন এলাকায় গত ১৩ আগস্ট সকালে মাটি ধসে দীর্ঘদিন থেকে নড়বড়ে থাকা কালভার্টটি ভেঙ্গে পরে। দীর্ঘ ২১ দিন থেকে কালভার্টটি ভেঙ্গে খালে পরে আছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা বন্ধ হওয়ায় দুই দিক থেকে আসা বিভিন্ন যানবাহন ভাঙ্গা কালভার্টের সামনে এসে থামছে। লোকজন যানবাহন থেকে কালভার্টের নিচে খাল দিয়ে পিচ্ছল পথ ধরে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাচ্ছেন। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকরা দুই থেকে তিনজন মিলে অনেক কষ্ট করে খালের নিচ দিয়ে তাদের সাইকেল এপার ওপার করছেন।
সিএনজি চালক শাকিল মিয়া বলেন, শ্রীমঙ্গল শহর থেকে আমাদের এলাকায় আসার রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে খারাপ অবস্থায় পড়ে আছে। এর মাঝে কালভার্টটি ভেঙ্গে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বেশ বিপদে আছে এই এলাকার ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ। তিনি বলেন, কালভার্টি ভাঙ্গা থাকার কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতলে নিয়ে যেতে না পারায় এরই মাঝে সিএনজির মধ্যে দু’জন নারী চা শ্রমিক বাচ্চা প্রসব করেছে। যা খুবই দুঃখজনক। এই অবস্থায় তারা মারা যেতে পারতো বলেও জানান তিনি।
লেবু ও আনারস বাগান মালিক ছায়েদ মিয়া বলেন, আমাদের বাগান থেকে লেবু আনারস, নাগামরিচ, পান নিয়ে বাজারে যেতে কনেক কষ্ট হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় জিপগাড়ি চলাচল করছে না। আমরা বাগান মালিকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
স্থানীয় সিএনজি, অটোরিকশা ও জিপ চালকরা বলেন, কালভার্টটা ভাঙ্গার পর থেকে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। আমরা একদিকে গাড়িগুলো নিয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না। আর যেগুলো বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছি সেগুলো গ্যাস ভরতে যেতে পারছি না। এমন একটা বাজে পরিস্থিতিতে পরেছি যে বিকল্প সড়কও নেই। গাড়ি বন্ধ থাকায় রোজি বন্ধ রয়েছে। টাকার অভাবে আমরা বাজার সদাই করতে পারছিনা।
জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের ব্যাবস্থাপক এসএনএম মাহবুব আলম মিছবাহ্ বলেন, গত ১৩ আগস্ট কালভার্টটি ভেঙ্গে পরার পর আমাদের প্রক্রিয়াজাত চা পাতা শহরে উঠাতে পারছি না। এতে দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না করলে চা শিল্পের পাশাপাশি লেবু আনারস বাগান মালিকরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, আমি দু-একদিনের মধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করব। তিনি বলেন আপাতত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙ্গা কালভার্টের একটা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিব, যাতে এলাকার মানুষজন ও গাড়ি চলাচল করতে পারে