অনলাইন ডেস্ক: | বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ১৬১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি: ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের মদদেই দেশে সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো ঘটছে। আওয়ামী লীগ মনে করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি হিন্দুদের জমিজমা দখলে নিয়ে বসে আছে।
আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের যে বিবেক-বিবেচনা আছে, সেই বিবেচনা থেকে তারা ভোট দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনে করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এভাবেই তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে ডিল করে। সাম্প্রদায়িক সমস্যাগুলো ঘটলে, তাদের (আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী) দুটো লাভ আছে। হিন্দুরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে, জমিজমা দখল করা যাবে। আর না গেলে ভোট পাওয়া যাবে। সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে মূল বিষয়ই এটা।’
জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে না থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আসতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের আগে থেকেই একটা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। এক-এগারোর সরকার পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে নির্মূল করে বিরাজনীতিকীরণের একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া ওই অবৈধ সরকারের সঙ্গে আপস করেননি, বিরাজনীতিকীকরণের সঙ্গে যুক্ত হননি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই অবৈধ সরকারের সঙ্গে আঁতাতে গিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সমন্বিত ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাতেও সরকারপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। অথচ তারা তারেক রহমান অভিযুক্ত বলে প্রচার করছে। এসব মামলাই তারেক রহমানের দেশে আসার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মির্জা ফফরুল আরও বলেন, দেশের মিডিয়া হাউসগুলোকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে অঘোষিত সেন্সরশিপ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা তাদের মতো করেই সংবাদ প্রকাশে বাধ্য করছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার প্রচারণাটা যতটা সহজে করতে পারে, আমরা সত্য কথাটাও সামনে আনতে পারি না।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার একেবারেই ব্যর্থ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান এবং ভোক্তারা কম মূল্যে পণ্য কিনতে পারেন। প্রতিটি পণ্যের অযৌক্তিক দাম বেড়েছে। এই দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে সিন্ডিকেট কাজ করছে। সরকারের মদদে-প্রশ্রয়ে সরকারি দলের ব্যবসায়ীরা এই কাজটি করছেন। ফলে একদিকে যেমন কৃষক তাঁর ফসলের দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভোক্তাকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহসভাপতি নুর ই শাহাদৎ, আবু তাহের, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েসসহ বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।