সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পেশ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের নৌ বীমা দাবি পরিশোধ করল কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচলো অস্ট্রেলিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে বাজেটে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান গ্রেফতার বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস পাবে: শিক্ষামন্ত্রী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী বাজেট ভোক্তাবান্ধব, তবে সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর : ক্যাব বাজেট বাস্তবায়নে দরকার দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা : এফবিসিসিআই
Advertise with us

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো: সংসদে হারুন

অনলাইন ডেস্ক:   |   সোমবার, ০৭ জুন ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ১৪৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

জাতীয় সংসদ ভবনফাইল ছবি

বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেছেন, কেনাকাটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। কীভাবে এই মন্ত্রণালয়ের সংস্কার করবেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সাংসদ হারুন এসব কথা বলেন। এ আলোচনায় অংশ নিয়ে আরও কয়েকজন সাংসদ স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে নিগ্রহের ঘটনায়ও বিরোধী দলের সদস্যদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অবশ্য এ বিষয়ে মন্ত্রী কোনো বক্তব্য দেননি।

হারুনুর রশীদ বলেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি বেহাল হয়ে গেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের আওতায় আনতে হবে। বেহাল দশা থেকে রক্ষা করতে কমিটি গঠন করতে হবে। ঢাকায় এক পদে ৫০ জন চিকিৎসক আর জেলা উপজেলায় চিকিৎসক নেই। লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছে। এতে লাখো কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে পরলে এটা রোধ করা যাবে।

হারুনুর রশীদ বলেন, কবে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে, সেটা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। প্রয়োজনে টিকা আনা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। কিন্তু সজাগ থাকতে হবে। বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার কোম্পানি টিকা এনেছে। ভারত কেন চুক্তির বরখেলাপ করল? ২০ লাখ মানুষ এক ডোজ টিকা পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সাংসদ রওশন আরা মান্নান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবজালরা অনিয়ম করছে রূপকথার গল্পের মতো। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এখন কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু তাদের থামানো যাচ্ছে না। এখানে অনেক মালেক, আবজালের ছড়াছড়ি। একজন নারী উপসচিবের কানাডাসহ তিনটি দেশে বাড়ি আছে।
সাংবাদিককে হেনস্তার সমালোচনা

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার সমালোচনা করে রওশন আরা মান্নান প্রশ্ন রাখেন, একজন নারী সাংবাদিক অন্যায় করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে দেওয়া হল না কেন? কেন তাঁকে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হলো? আইন কেন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলো? নিজেরা কেন অত্যাচার করল? এটা নিয়ে দেশবাসী অনেক সমালোচনা করছে।

জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, চুরি–ডাকাতি করলে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা যায়। কিন্তু আইন কেন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলো—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘তাঁকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হলো। তাঁকে টয়লেটে যেতে দেননি। অসুস্থ মানুষ, তা-ও মহিলা, তাঁকে এভাবে হেনস্তা করা যায়? এটা নিয়ে জাতিসংঘ, সারা পৃথিবী কথা বলল। আমাদের মুখটা কোথায় গেল? নিজেদের দুর্বলতা নিজেদের ঢাকতে হয়।’

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আসলে কথা বলে লাভ কী। কার কথা কে শুনে। আর আমাদের কথা কেউ বিশ্বাসও করে না। এ জন্য কথা বলতেও চাই না।’

বিএনপির সাংসদ মোশাররফ হোসেন বলেন, সচিবপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গলা চিপে ধরে হেনস্তা করেছেন, এটা হতে পারে না।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আপনি একজন সজ্জন ব্যক্তি। আপনার বাবা আমার সঙ্গে মন্ত্রী ছিলেন। আপনাকে আমি চিনি। অত্যন্ত ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে আপনি। কিন্তু আপনার তো কর্তৃত্ব নেই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যা হচ্ছে।’

কাজী ফিরোজ বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন নেই। এখন দরকার অক্সিজেন। সেটা না এনে আনা হচ্ছে এমআরআই, সিটিস্ক্যান মেশিন। পাঠানো হচ্ছে উপজেলায়। তারা সব সাজিয়ে রেখে দিয়েছে। চালাতে পারে না। লাখো কোটি টাকা যাচ্ছ। কিন্তু জনগণ সেবা পাচ্ছে না।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অবহেলার মাশুল দিতে হচ্ছে। জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় সব দেশে বরাদ্দ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।

করোনাকালে ভারত স্বাস্থ্য খাতে আগের বছরের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশে বেড়েছে মাত্র ১২ শতাংশ। করোনাকালেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।

আবার যেটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাও ব্যবহার হয়নি। তিনি আরও বলেন, ১০ মাসে স্বাস্থ্য খাতে এডিপির মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এখন আবার নতুন বরাদ্দ চাইছে। কেন ৭৫ শতাংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে, তার জবাব স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জেলায় জেলায় আইসিইউ স্থাপন করতে বলেছেন। কিন্তু দেড় বছরে মাত্র ৫টি জেলায় নতুন আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, এমপি-মন্ত্রী, ব্যবসায়ীরা অনেকে মনে করতেন, সর্দি–কাশি হলেও দেশে চিকিৎসা নিতে হবে না। করোনা দেখিয়েছে দেশে চিকিৎসা ছাড়া উপায় নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জবাব
সাংসদদের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। দেড় বছর যাবৎ করোনা চলছে। তাঁরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওষুধের কোনো ঘাটতি হয়নি। অক্সিজেনের অভাব কখনোই হয়নি। আমেরিকায় যে চিকিৎসা, এখানেও একই চিকিৎসা হয়েছে। টিকা কার্যক্রম চলমান। এসব কারণে মৃত্যুর হার দেড় শতাংশ। পৃথিবীতে এই হার আড়াই শতাংশ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে করোনা বেড়ে যাওয়ায় সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা সরবরাহ করতে পারছে না। চীন, রাশিয়া, আমেরিকা থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চুক্তিও হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আরও অনেক টিকা কিনতে হবে। প্রতিটা ব্যক্তির ক্ষেত্রে টিকার জন্য প্রায় ৩ হাজার টাকা করে লাগবে। করোনার সময়ও প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সাধারণ শয্যায় চিকিৎসা নিতে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এটা সরকার বহন করেছে। যারা আইসিইউতে ছিল, তাদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে খরচ করেছে।

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ খুবই সফলতা দেখিয়েছে—দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কারণে জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office