সারাদেশ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
৪০ বছর আগে রেখা বেগমকে বিয়ে করেন আব্দুল কুদ্দুস। দাম্পত্য জীবনে তারা ৫ কন্যা সন্তানের জনক-জননী। ৪০ বছরে রেখাকে পাঁচবার তালাক দেন আব্দুল কুদ্দুস। এরপর আবারও তাকে বিয়ে করেন। বছর দুয়েক আগে তাদের আবারও বিচ্ছেদ হয়। ষষ্ঠবার বিচ্ছেদ হওয়ার দেড় বছরের মাথায় অন্যত্র বিয়ে করেন রেখা বেগম।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রেখাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন তার সাবেক স্বামী আব্দুল কুদ্দুস। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়িতে রেখার মৃত্যু হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চক হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্বামীর হাতে নিহত রেখা বেগম উপজেলার চককীর্ত্তি ইউনিয়নের চকহরিপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী। হাবিবুর রহমান জানান, বাড়াবাড়ি করলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন রেখার সাবেক স্বামী আব্দুল কুদ্দুস। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্ত্রী হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে ৪০ বছর আগে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের সংসারে প্রায় অশান্তি লেগে থাকত। এসব ঘটনায় কারণে অকারণে স্ত্রীকে পাঁচবার তালাক দেন আব্দুল কুদ্দুস। প্রতিবারই রেখা বেগম সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে কুদ্দুসের সংসারে ফিরে যান।
বছর দুয়েক আগে রেখার ভাইকে মারধর করেন কুদ্দুস। এ ঘটনায় গ্রাম্য শালিসে তাদের আবারও বিচ্ছেদ হয়। এর দেড় বছরের মাথায় চলতি বছরের জুলাইয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে রেখার বিয়ে হয়। কিন্তু বিষয়টি মানতে না পেরে গত ২ নভেম্বর সকালে রেখার মাথায় আঘাত করেন তার সাবেক স্বামী।
গুরুতর আহত অবস্থায় রেখাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃহষ্পতিবার সকালে রেখা বেগম মারা যান।
রেখার স্বামী হাবিবুর রহমান জানান, এবার তাকেও হুমকি দিচ্ছেন আব্দুল কুদ্দুস। মোবাইলফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কুদ্দুস তাকে বলেন, ‘রেখাকে খেয়েছি। এবার তোর পালা। তুই তৈরি থাক।’
রেখার বড় মেয়ে শিউলি খাতুন বলেন, আমাম জন্মদাতা বাবা এত নিচু মনের মানুষ যে, আমাকে এবং আমার বাকি চার বোনকেও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির জানান, নিহতের বর্তমান স্বামী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ওই নারীর সাবেক স্বামীসহ ৬ জনকে আসামি হয়েছে।