শিরোনাম
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করেনি ভারত: স্পিকার এমডি-সিইওদের মূল্যায়নের হিসাব নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো জরুরি গত পাঁচ মাসে হামের টিকা পেয়েছে প্রায় দুই কোটি শিশু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি শরীফপুর ইউনিয়নে শামছুল হকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কক্সবাজারে ১১ হাজার ৭৬৮ জনকে আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর

সারাদেশ ডেস্ক   |   সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ দ্রুত ধেয়ে আসছে। সন্ধ্যার দিকে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এরই মধ্যে কক্সবাজারসহ সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুরো জেলায় ১১ হাজার ৭৬৮ জন মানুষ এবং এক হাজার ৯৮০ পশুকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। স্থানান্তর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকেই কক্সবাজারে প্রচণ্ড বাতাস বইতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে সাগর উত্তাল হয়ে আঁছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। রয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও। এদিন বিকেল ৩টা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উড়োজাহাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া বিবেচনায় পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ডুবে গেছে ১৩টি ট্রলার। রাতে সাগরে জোয়ার আসলে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা কাজ করছে দ্বীপবাসীদের মধ্যে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাগরে ১৩টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তার মধ্যে দুটি ট্রলারের হদিস এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। সেন্টমার্টিনের লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। প্রস্তুত করা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। রাতে জোয়ার আসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ছয় লাখ পাঁচ হাজার ২৭৫ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এ ছাড়া জরুরি সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিত্রাংয়ের মোকাবিলায় রোববার সন্ধ্যায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়। এতে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ সভাপতিত্ব করেন। জেলা প্রশাসন জানায়, কক্সবাজারে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ছয় লাখ পাঁচ হাজার ২৭৫ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খোলা হয়েছে ৯টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। প্রস্তুত রয়েছে ১০৪টি মেডিকেল টিম। এ ছাড়া ৩২৩ টন চাল, ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও এক হাজার ১৯৮ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৫০ কার্টুন ড্রাই কেক, ৪০০ কার্টুন বিস্কুট মজুত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ বলেন, ‘সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আজ সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বাতাস সর্বোচ্চ গতিবেগে বয়ে যাবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ এর খবর আগে থেকে জেনে যাওয়ায় রোববার কক্সবাজার ছেড়ে গেছেন পর্যটকেরা। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যারা ছিলেন তাদের রোববার রাতে কক্সবাজারে ফিরিয়ে আনা হয়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন,‘কক্সবাজারে চার শতাধিক হোটেলের অধিকাংশই এখন পর্যটকশূন্য। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অধিকাংশ পর্যটক সর্বশেষ কক্সবাজার ছেড়ে চলে গেছেন।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office