সারাদেশ ডেস্ক | বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ২৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিজ বাড়ি এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে যুবকের জেলফেরত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাজার পাড়া এলাকার বাড়ি থেকে মো. রিদুয়ান (৩৫) নামের ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রিদুয়ান রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল ইসলামের ছেলে।
রিদুয়ানের স্ত্রী রুমি আকতার গত ২৮ আগস্ট নিহত আবদুল মালেক হত্যা মামলায় জেল খেটেছেন। মাস দেড়েক আগে তিনি জেল থেকে ফিরেছেন। রুমি মগনামা মোলার পাড়া এলাকার তাজ উদ্দিনের মেয়ে।
রিদুয়ানের বন্ধু ও প্রতিবেশী সালাহ উদ্দিন রানা বলেন, রিদুয়ানের দ্বিতীয় স্ত্রী রুমি। তাঁর প্রথম স্ত্রী রাজাখালীতে থাকেন। বছর দেড়েক আগে রুমিকে বিয়ে করেন রিদুয়ান। তখন থেকেই তাকে নিয়ে মগনামার বাজার পাড়ায় থাকতেন রিদুয়ান। তাঁদের মাঝে প্রায় সময় ঝগড়াঝাঁটি হতো।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তাঁদের মাঝে বাকবিতন্ডার শব্দ শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। পরে রাত ১২টার দিকে আত্মীয়-স্বজনেরা খবর পেয়ে রিদুয়ানের বাড়িতে যায়। তখন তাকে বিছানায় পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায় তারা। এসময় বাড়িতে ছিলেন না রুমি। খবর দিলে পুলিশ রিদুয়ানের লাশ উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আবুল খায়ের আযাদ বলেন, রাত পৌনে দুইটার দিকে মৃত অবস্থায় মগনামার এক যুবককে নিয়ে আসে পেকুয়া থানা পুলিশ। তাঁর শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে মুখে বিষের গন্ধ ছিল।
রিদুয়ানের ভাই মো. করিমের দাবি, তাঁর ভাইকে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছেন স্ত্রী রুমি। তিনি আরও দাবি করেন, রুমিই তাকে হত্যা করে পালিয়েছেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার বলেন, রিদুয়ানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে দিনমজুর আবদুল মালেককে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন রুমিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।