শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৭ মার্চ জাতীয় দিবস বাতিলের পক্ষে-বিপক্ষে যত বিতর্ক

জাতীয় ডেস্ক   |   শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৮৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন দলীয় দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তো, সেগুলা এবং যে দিবসগুলোকে অগুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, সেই দিবসগুলোকে বাতিল করা হয়েছে।

তবে আটটি দিবসের মাঝে ৭ মার্চ জাতীয় দিবস বাতিল করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৪ঠা নভেম্বরের সংবিধান দিবস নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও শেখ মুজিবুর রহমানসহ বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ রাসেলের জন্মদিনের দিবস এবং স্মার্ট বাংলাদেশ দিবসের বিষয়ে ততটা বিতর্ক দেখা যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ফেসবুক পেজে জাতীয় দিবস বাতিলের বিষয়ে করা পোস্টের কমেন্টে অনেকেই সেগুলোকে ‘পরিবারতন্ত্র দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অনেক জনপ্রিয় হলেও ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত দিনটিকে কোনও দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সব জেলা ও উপজেলায় ‘বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল’ স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। সে বছরই ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

দিনটিতে সরকারি ছুটি না থাকলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশজুড়ে ভাষণ প্রচার, স্কুল-কলেজে নানা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, উপাসনালয়ে প্রার্থনা, শেখ মুজিবের বায়োপিকসহ বিভিন্ন প্রদর্শনী, মন্ত্রণালয়ের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের উদযাপন, এমন নানা ধরনের কর্মসূচি বড় পরিসরে পালন শুরু হয় ২০২১ সাল থেকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭ মার্চ ঘিরে কর্মসূচি আগেও থাকতো, কিন্তু দিবস ঘিরে নানা আড়ম্বরের শুরুটা ২০২১ থেকেই বলা যায়।

এ কারণে এ দিবসটি বাতিল হওয়ার পর সমালোচনার প্রেক্ষিতে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে ২০২১ সালের আগে ৭ মার্চ জাতীয় দিবস বলে পালিত হতো না, এখন সেটা বাতিল হলে কেন এতটা প্রতিক্রিয়া হবে।

এসব দিবস বাতিলের ঘোষণার পর পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের তরফ থেকেও। যদিও সামাজিক মাধ্যমে যারা দিবস বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তাদের সবাই যে বিগত সরকারের অনুগত তেমনটাও পুরোপুরি বলা যায় না।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ৭ মার্চ এবং ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস বাতিল ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি। একেকজন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে আর ইতিহাসকে বিকৃত করবে আড়াল করবে অথবা নতুন করে লিখবে তা হতে পারে না।

অর্থনীতিবিদ ও অ্যাকটিভিস্ট আনু মুহাম্মদও এই দিবস বাতিলের বিপক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। ৭ মার্চকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, শেখ মুজিব রাজনৈতিক চরিত্র, তার সমালোচনা-পর্যালোচনা অবশ্যই হবে কিন্তু ইতিহাস মোছার চেষ্টা চলবে না।

জনগণের উত্থান থেকেই এই ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যেটা একা শেখ মুজিবের মালিকানাধীন বিষয় না এবং এটা বাতিল করার তেমন প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন না তিনি।

যদিও শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকেন্দ্রিক দিবস নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। তার মতে, দিনগুলো দলীয় বা পারিবারিক, কিন্তু ৭ মার্চে জনগণের অংশীদারিত্ব আছে।

অবশ্য দিবস বাতিলের পক্ষে মতও কম নেই। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান ভিডিও পোস্টে উল্লেখ করেন, মাফিয়া সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় কী চরম নোংরামি করেছে এই দিবসগুলো তার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পরিবারকেন্দ্রিক দিবস থাকা, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মীয় শেখ ফজলুল হক মণিকে ঘিরে তেমন দিবস না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে দিবস বাতিলের পক্ষে যারা বলছেন তাদের বেশিরভাগই উল্লেখ করছেন যে এই দিবসটি স্বাধীনতার পর থেকে ৫০ বছরে ‘দিবস’ হিসেবে পালন হয়নি, এমনকি আওয়ামী লীগের আমলেও না।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ নিজ চোখে দেখা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিবিসি বাংলাকে বলেন, ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চেই জনগণ রাস্তায় নেমে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিল এবং মার্চের দুই তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

এখানে শেখ মুজিবের ভূমিকা ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে সেই পতাকা উত্তোলনের পেছনে ছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব, তৎকালীন জিএস আব্দুল কুদ্দুস মাখন, ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।

অবশ্য তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ৭ মার্চের ভাষণকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এটি জাতীয় দিবস হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ না বলে মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগই শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিচ্ছবিসহ অনেক দিবসকে নষ্ট করে ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুত্বকে ইতিহাস থেকে নাই করে দিচ্ছি না যেটা আওয়ামী লীগ করেছিল। ইতিহাসের অংশ হিসেবে নির্মোহভাবে থাকতে পারে, কিন্তু দিবসের প্রয়োজনীয়তা নেই।

সামনেও গুরুত্বের বিবেচনায় দিবস বাতিল বা নতুন দিবস যুক্ত হতে পারে বলে জানান তিনি। সূত্র- বিবিসি বাংলা

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office