অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট | ১৫৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গ্রেপ্তার আতঙ্কে 'পুরুষশূন্য' ফরিদপুরের সালথা
আজ রবিবার সকালে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার সোনাপুর, ভাওয়াল ও রামকান্তুপুর ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামে সুনশান নীরবতা। এসব গ্রামের অনেক মানুষকে তাণ্ডবের মামলায় আসমি করা হয়েছে। প্রতিদিনই পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এ ছাড়াও পুলিশের অভিযানের আতঙ্কে আশপাশের ইউনিয়নের মানুষও গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছে। ওই সব গ্রামের হাট-বাজার, মাঠ, বাড়ি-ঘরগুলোতে নারী আর শিশু ছাড়া কোনো সদস্য দেখতে পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। ঘটনায় জড়িত অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। আবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেই এমন অনেক লোকও গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ সময় বাড়ির নারী ও শিশুদের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাইরের মানুষ দেখলেই তারা ভয়ে দৌড়ে সরে যাচ্ছেন। মাঠে নেই কোনো কৃষক। এতে মাঠে থাকা হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি সম্ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, তাণ্ডবের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এজহারভুক্ত ২৬১ জনকে ছাড়াও অজ্ঞাত আরো ৩/৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। যার ফলে যে কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করার সুযোগ রয়েছে বলেই অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন।
এ তাণ্ডবের ঘটনায় ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত বেশির ভাগ আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তাদের আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশ কাউকে অযথা হয়রানি করছে না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, কোথাও কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কয়েক দিনের জন্য সেখানে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুতই এ অবস্থা কেটে যাবে।