শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ পেলেন না কাজী মঈন উদ্দিন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   |   মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ পেলেন না কাজী মঈন উদ্দিন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৫ নম্বর ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সম্প্রতি তাঁর লাইসেন্স বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়। এরপর তিনি লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট করলেও আদালত স্থগিতাদেশ দেননি। ফলে আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক তাঁর লাইসেন্স বাতিল থাকায় পাশ^বর্তী ১ নম্বর বরমচাল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী এ কে এম বদরুল হককে ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৯ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আবদুল ওয়াহাব স্বাক্ষরিত পত্রে ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ মঈন উদ্দিন চৌধুরী এর বিরুদ্ধে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৩ (ঙ) বিধি লঙ্ঘন করে নিজ অধিক্ষেত্রের বাহিরে পাশ^বর্তী কাদিপুর ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ও তা একই বিধিমালার বিধি ১১ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ করায় তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আবদুল ওয়াহাব স্বাক্ষরিত এক পত্রে কাজী মঈন উদ্দিনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হলে তিনি কোন জবাব দাখিল না করায় তাঁর নামে উক্ত বিভাগ থেকে গত ০৩/০৮/২০০২ খ্রি. তারিখের বিচার ৭/২ এন ৩৯/৮৩-৮০৫ নং স্মারকে ইস্যুকৃত নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এরপর কাজী মঈন উচ্চ আদালতে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন, সিনিয়র সহকারী সচিব, জেলা রেজিস্ট্রার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাব রেজিস্ট্রারকে বিবাদী করে রিট পিটিশন (নং-৯২৩৩/২০২৬) দায়ের করেন। যারপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক লাইসেন্স বাতিলের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর কাজী মইন উদ্দিনের স্থগিতাদেশের আবেদন আদালত নামঞ্জুর করে রুল নিশি জারি করেন। তিন মাসের ভিতরে স্থায়ী নিয়োগ না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। গত ১৫ জুলাই আদালতে বিচারপতি রাজিক আল জালিল ও দেবাশীষ রায় চৌধুরীর যৌথ বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে অ্যাডভোকেট জুলহাজ উদ্দিন আহমেদ ও মোঃ সুহেল ইসলাম খান শুনানি করেন।

রাষ্টপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ, মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি), মো. হুমায়ুন করিম সিদ্দিকী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তানভীর প্রধান কাজী রহমান, মাহফুজা আউয়াল। তারা আপত্তি দিলে ওইদিন আদালত সিদ্ধান্ত না দিয়ে একদিন শুনানি পেছানো হয়। গত ১৬ জুলাই আদালত দীর্ঘ শুনানির পরে রায় প্রদান করেন। এরআগে আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৩ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে বরমচাল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী একেএম বদরুল হককে ৫ নং ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রারকে যাবতীয় রেকর্ড পত্র অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট অর্পণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। জনগুরুত্বপূর্ণ ও সরকারী যাবতীয় রেকর্ড পত্রাদি উদ্ধারের স্বার্থে আইনগত সহায়তা করার জন্য অফিসার ইনচার্জ কুলাউড়া থানা কে অনুরোধ করেন।
এদিকে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম নিকাহ রেজিস্ট্রার মঈন উদ্দিনের অফিস পরিদর্শন করে দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বালাম যাচাইয়ের সময় অনিয়মের অভিযোগসহ বাল্যবিয়ের সত্যতা পান। যার কারণে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ এর লঙ্ঘন হওয়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রার মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তাঁর লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বছরের ১৭ নভেম্বর কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরণ করেন জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম। পরবর্তীতে কাজী মঈন উদ্দিন ২৩ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিশের জবাব দাখিল করেন। কিন্তু বাল্যবিয়ে ও অন্যান্য অসংগতির বিষয়ে কাজী মঈনের দেয়া নোটিশের ব্যাখা সন্তোষজনক হয়নি। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি কাজী মঈনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে আবেদন করেন জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office