শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন সেই কুলসুমা

অনলাইন ডেস্ক:   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ১৩৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

গ্রেফতার কুলসুমী আক্তার কুলসুমী। মুক্তি পাওয়া মিনু (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

হত্যা মামলায় আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অন্য নারীকে দিয়ে খাটানো সেই কুলসুমা আক্তার কুলসুমীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

কুলসুমীকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় । গ্রেফতারের আগে চতুর এই নারী বারবার স্থান পরিবর্তন করেছে। তাকে নজরদারিতে রাখছিল আইনশৃংখলা বাহিনী।

কুলসুমীর পরিবর্তে তার হয়ে জেল খাটা মিনু আক্তার উচ্চ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেয়েছিলেন। মুক্তির ১৩ দিনের মাথায় গত ২৮ জুন মধ্যরাতে নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডে ট্রাকচাপায় মারা যান মিনু।

মুঠোফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে গ্রেফতার করে। ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমী জামিনে বের হয়ে আসেন। তার জামিন পাওয়ার প্রায় আট বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় দেন।

রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিন অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী ‘সেজে’ মিনু আক্তার ‘স্বেচ্ছায়’ সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১৬ জুন উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু আক্তার। গত ১৬ জুন উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু আক্তার।

কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার বাসিন্দা মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল বছর পাঁচেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর মিনু আক্তার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আসেন।

সন্তানদের ভরণ-পোষণের ‘মিথ্যা আশ্বাসে’ মিনু যখন অন্যের হয়ে সাজা ভোগ করছিলেন তখন তার দুই ছেলে ইয়াছিন (১০) ও গোলাপ (৭) সীতাকুণ্ডের একটি এতিমখানায় থাকত এবং মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) স্থানীয় এক ব্যক্তি লালন পালন করছিল। কিন্তু আশ্বাস মতো কোনো টাকা বা সন্তানদের জন্য খাবার কিছুই মিনু আক্তার পাননি।

এরমধ্যেই ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কুলসুমী রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ করেন।

গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর চতুর্থ দায়রা জজ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানায়, কারাগারে থাকা নারী দণ্ডিত কুলসুমী নন।

পরদিন কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।

এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনজীবী মো. শিশির মনির তা আপিল সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। শুনানি শেষে ৭ জুন মিনুর মুক্তির আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।

চট্টগ্রামে এসে উচ্চ আদালতের সেই আদেশ পৌঁছালে ১৬ জুন মুক্তি পান মিনু আক্তার। কিন্তু গত এপ্রিলে রোজার মধ্যে মিনুর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্ঘটনায় মারা যায়। জেল থেকে বের হওয়ার পর মেয়ের মৃত্যুর খবর পান মিনু।

মুক্তির ১৩ দিনের মাথায় ২৮ জুন গভীর রাতে বায়েজিদ লিংক রোডে ‘ট্রাকচাপায়’ মিনু মারা যান বলে জানায় পুলিশ। মিনুর মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office