অনলাইন ডেস্ক: | মঙ্গলবার, ০২ নভেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট | ১৫২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবি: মানববন্ধনে অংশ নেন বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১৭টি ফাইল গায়েব হচ্ছে কেন? আমার মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে ভাগতে চাচ্ছেন। তাই যাতে কোনো ডকুমেন্ট না থাকে, সে জন্য ১৭টি ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এটা মন্ত্রীর নির্দেশে গায়েব করা হয়েছে। এই ফাইল থেকে কোন জায়গা থেকে কত টাকা, কত পারসেন্ট দেওয়া হয়েছে, তার যদি কোনো ডকুমেন্ট থেকে থাকে, সেই কারণে এই ফাইলগুলো হাওয়া করে দেওয়া হয়েছে।’
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরা মারামারি করে মরছেন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। নিজেরা নিজেরাই মরে যাচ্ছে মারামারি করে, হানাহানি করে। ওরা জানে, যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবে, সে-ই তো পাস। প্রতিদ্বন্দ্বিতার দরকার নেই। নির্বাচনের দরকার নেই। তাই যেভাবেই হোক ওই সোনার হরিণ চেয়ারম্যান হওয়া চায়। চেয়ারম্যান হলেই তো লাখ লাখ টাকা, কোটি টাকা সিন্দুকে ঢুকে যাবে। তাই আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও নিজেরা নিজেরা রক্তারক্তি করছেন একটা টিকিট পাওয়ার জন্য। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। সেখানে তো লুটপাট, টাকা আত্মসাতের বিরাট সুযোগ।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, তুরাগ, বুড়িগঙ্গা নদী একটা নর্দমায় পরিণত করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী গেছেন গ্লাসগোতে। এই বাংলাদেশকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন, এই দেশে না আছে স্বাধীনতা, না আছে সার্বভৌমত্ব। আর গণতন্ত্রকে তো অনেক আগে গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়েছে।
ঘাটে ঘাটে ক্ষমতাসীনেরা চাঁদা আদায় করছেন অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার তো কথা নয়। প্রতিটি জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও ক্ষমতাসীনদের একটা পারসেন্ট দরকার। এই পারসেন্ট নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের সিন্ডিকেট, তাঁদের লুটেরারা সব জায়গায় বিস্তার লাভ করেছেন। পকেট ভারী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। এর কারণ, যেকোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে তাঁদের যদি বাংলাদেশ ছাড়তে হয়।
রিজভী আরও বলেন, ‘ওরা অনির্বাচিত, ওরা অগণতান্ত্রিক। ওদের নির্বাচনের দরকার নেই। তাই যারা ডাকাত, যারা লুটেরা, দস্যুবৃত্তি যাদের রাজনীতি, তাদের কখনোই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই না। তাই বিনা ভোটে আজ ক্ষমতার রাজসিংহাসনে বসেছে। ওই সিংহাসনের পায়া ধরে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে হবে।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।