অনলাইন ডেস্ক: | বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট | ১৭৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কালবৈশাখীতে ঘরের ওপর গাছ পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামে ছবি:
‘সাহ্রি খাইয়া আমি পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমাইছি, তাই আমি বাঁইচা গেছি। কেন আমি বাঁচলাম, সবার সঙ্গে মরতে পারলাম না। ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ কালবৈশাখীতে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে হারিয়ে আহাজারি করে এসব কথা বলছিলেন হারুন মিয়া। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামে এমন পরিস্থিতি দেখা গেল। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বুলু মিয়ার বাড়িতে এক যুগ ধরে তত্ত্বাবধায়কের কাজ করার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন হারুন মিয়া। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চকবানিয়াপুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে কালবৈশাখীতে ঘরের ওপর গাছ পড়ে হারুনের স্ত্রী মৌসমা বেগম (৩৫), মেয়ে মাহিনা আক্তার (৪) ও এক বছরের ছেলে হোসাইন মিয়ার ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুলেমানপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর ওই বাড়ির পাশে টিনশেড দুটি ঘর। একটি ঘরে ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করতেন হারুন মিয়া। অপর ঘরে এলাকার ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। শোবার ঘরের চালের ওপর একটি বড় গাছ ও ডেউয়াগাছ পড়ে ঘরটি মাটির সঙ্গে লেগে দুমড়েমুচড়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে কথা হয় হারুন মিয়ার বাবা এখলাছ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি এই এলাকায় ২৫ বছর ধরে আছি। আমার ছেলে হারুন ছোটবেলা থেকে এই এলাকায় আছে। সে স্নাতক পাস করে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করত। তার পরিবারের সবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে গেল। আমি বাক্রুদ্ধ।’
পাটলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতহার উদ্দিন বলেন, পাঁচ বছর ধরে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন হারুন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তিনি খুব দায়িত্বশীল। তাঁর চার বছরের মেয়ে প্রায়ই বাবার সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসত।
লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল শুভাশীষ ধর। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।