রাজনীতি ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ | প্রিন্ট | ১১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট আজ বৃহস্পতিবার। আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে নির্বাচন-সংক্রান্ত অনেক হিসাব-নিকাশের চুলচেরা বিচার-বিশ্নেষণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কৃত মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। সাক্কু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।
বর্তমানে কুমিল্লার রাজনীতিতে দুটি প্রশ্ন বড় হয়ে এসেছে। মাসুদ পারভেজ খান ইমরান শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন কিনা? আবার মেয়র মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন কিনা? সুনির্দিষ্ট এ দুটি প্রশ্ন নিয়ে কুমিল্লায় ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এই গুঞ্জনের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য আজ বিকেল ৫টায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অধীর আগ্রহে থাকতে হবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভোটারদের।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানও তাই মনে করছেন। তিনি জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। তিনি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন। সাক্কু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তিনি নির্বাচনে থাকবেন- এটা শতভাগ নিশ্চিত।
মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন। নিজের মতো করে নির্বাচন-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। সুতরাং তিনি নির্বাচনে থাকবেন। আগে ইচ্ছা থাকলেও এ মুহূর্তে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ কিংবা সম্ভাবনাই নেই। তবে এ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইমরান বলেছেন, ‘অপেক্ষা করুন এবং দেখুন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না।’ সাক্কু নির্বাচনে থাকলে কী করবেন- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন ইমরান। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোন নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ফোন আসবে। এ ব্যাপারে তিনি খুদে বার্তা পেয়েছেন।
তবে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে ইমরানকে সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা। এই বিষয়টি তাঁকে স্মরণও করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কথা বলেছেন মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের সঙ্গে। এ সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থীর বোন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা উপস্থিত ছিলেন।
এই নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় মাসুদ পারভেজ খান ইমরান নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে বৈঠকে
অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান নির্বাচনে লড়বেন বলে জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস দেওয়ার পরও তাঁর এমন মন্তব্যকে দলীয়ভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিতে নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগে বিদ্রোহের কোনো সুযোগ নেই। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুতরাং স্থানীয় সরকারের অন্য সব নির্বাচনের মতো কুসিক নির্বাচনেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরান শেষতক নির্বাচনে থেকে গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।
তবে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালাবেন বলে মনে করছেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। দলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তার পরও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরানকে বহিস্কার করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজল খান ও কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধী দীর্ঘদিনের। আফজল খানের মৃত্যুর পর পারিবারিক ধারায় আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। এ ক্ষেত্রে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পর থেকে মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে কুসিক নির্বাচনকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ রয়েছে। এ নিয়ে কৌশলগত আলাপ-আলোচনাও হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগেও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে থেকে গেলেও সমস্যা নেই। এতে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। আবার বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেলেও দলীয় বিভেদের নেতিবাচক প্রভাব না কমারও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই।