শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে ঝলসে গেলেন খালেদুর

সারাদেশ ডেস্ক   |   সোমবার, ০৬ জুন ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১৬৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

বিএম ডিপোর ম্যানেজার (প্রশাসন) খালেদুর রহমান দুর্ঘটনার সময় ছিলেন বাসায়। অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে তিনি আর বাসায় থাকতে পারেননি। ছুটে যান দুর্ঘটনাস্থলে। গিয়েই নেমে পড়েন উদ্ধার তৎপরতায়। কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিস্ম্ফোরণ হলে তিনি দগ্ধ হন। তাঁকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ আরও কয়েকজনকে আনা হয়েছে এখানে।

জরুরি বিভাগের ৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন খালেদুর। মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো। মুখের একাংশ ফুলে যাওয়ায় বাম চোখ খুলতে পারছেন না। ডান চোখ আংশিক খোলা। এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি।

৫৮ বছর বয়সী খালেদুর ৮ বছর ধরে বিএম কনটেইনার ডিপোতে চাকরি করছেন। তাঁর অধীনে শ্রমিকসহ প্রায় ৬০০ জন কর্মচারী। শনিবার রাতে ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ব্যক্তিগত চালককে নিয়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তাঁর গাড়ি চালক ফারুক জানান, গাড়ি থেকে নেমে খালেদুর অগ্নিকাণ্ডের দিকে যেতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারীরা নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি। খালেদুর তাঁদের বলেছিলেন, ভেতরে অনেক শ্রমিক আছে। তাঁদের বাঁচাতে হবে। এসব বলতে বলতে তিনি এগিয়ে যান। কনটেইনার সরানোর নির্দেশনাও দিচ্ছিলেন ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে। তখন চালক ফারুক ডিপোর বাইরের দিকে চলে আসেন। এ সময় বিকট শব্দ শুনতে পান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি তাঁকে খুঁজেও পাননি।

খালেদুরের স্ত্রী জান্নাতুর ফেরদৌসী জানান, চালকের কাছে খবর পেয়ে তিনিসহ পরিবারের কয়েকজন একটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাঁর স্বামীকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত চট্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, খালেদুর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বারবার বলেছিলাম সাবধানে থেকো। কনটেইনারের কাছেও যেও না। দূর থেকে খোঁজ-খবর নিও। শ্রমিকদের খুব আপন মনে করেন। এ কারণে নিজের জীবনের কথা ভাবেননি।

গতকাল দুপুরের পর খালেদুর রহমানকে জরুরি বিভাগ থেকে স্থানান্তর করে এইচডিইউ ইউনিটে রাখা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর শরীরের ১২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বিস্ম্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দগ্ধ পুলিশের এসআই কামরুল হাসানও বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তিনি শিল্প পুলিশের সীতাকুণ্ড ইউনিটে কর্মরত।

তাঁর বড় ভাই নিয়ামত আলী জিসান জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশেই তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় কনটেইনার বিস্ম্ফোরণ হয়। তাঁর দুই পায়ে কোনো বস্তুর টুকরো এসে পড়ে। এতে ডান পায়ের গোড়ালিতে ক্ষত হয়েছে। মাংস থেঁতলে গেছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটে আরও ভর্তি করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মী গাউসুল আজম ও রবীন মিয়াসহ ১২ জনকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন ১৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office