| রবিবার, ২৩ মে ২০২১ | প্রিন্ট | ৫০০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
অভিমান
বর্ণালী মিত্র
সুপর্ণা যখন মানুষী ছিলো আমার কাছে
দাবদাহের মতো উষ্ণ চুম্বন চেয়েছিলো ,
সমুদ্রের কোলাহলের মতো
মান অভিমান ও চাইতো হামেশাই।
পাহাড়ের মতো উদারতায় ওর সব
ভুল , ত্রুটি, রাগ , বিচ্যুতি ভুলে যাই , চাইতো ।
কালবৈশাখীর মতো ঝোড়ো প্রেম চাইতো ।
পাখীর নীড়ের মতো একটা খড়কুটো বাসার
বড় শখ ছিলো ওর ।
আরো অনেক কিছু চাইতো সুপর্ণা ,
শিমুল পলাশ হৃদয় চাইতো ,
পাহাড়ি ঝোরার মতো উচ্ছাস চাইতো
হড়পা বানের মতো যখন তখন
শরীরী জলোচ্ছ্বাস ও ভারি ভালোবাসতো সুপর্ণা ।
সুপর্ণা এখন একটা নদী হয়ে গেছে ।
আস্ত একটা নদী ।
ওর সেই শীর্ণ পাহাড়ি ঝর্ণা শরীরটা
চওড়া হতে হতে দুকূল ছাপিয়ে গেছে যে কখোন
আমি বুঝতেই পারি নি ।
ওর দুপাড়ে এখন ধু ধু বালির মরুভূমি ।
সেই মরুভূমি পার করে আমি আর
ওর শীতল শরীর ছুঁতে পারি না ।
ওর বুকে ভেসে বেড়ায় জেলে ডিঙি ,
ও নির্বিকারে শুধু খলখল হাসে ,
আমি শুধু ওকে দূর থেকে দেখি ।
সেদিন দেখি ওর বুকের ঠিক মাঝখানে
তিনকোনা এক অভিমানের চরা
জেগে উঠেছে হঠাৎ ,
আমার ভারী কষ্ট হলো সেদিন ওর জন্য ,
ডাকলাম “সু” শুনতে পাচ্ছো ??
আমি , আমি তোমার আকাশ ,
চিনতে পারছো না আমাকে ??
সুপর্ণা ফিরেও তাকালো না ,
কি অদ্ভুত শীতলতা ওর পুরো শরীর জুড়ে
ওর শীতল নিঃশ্বাসে আমার শরীরে কাঁপন ধরে গেল।
কি নিরাসক্তি ওর ঘোলা শরীরের আনাচে কানাচে!!
আমি শুধু দূর থেকে ওকে দেখতেই থাকলাম ।
শুধু দেখতেই থাকলাম ।