রাজনীতি ডেস্ক | রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করা সোজা নয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী? আওয়ামী লীগ তো ক্ষমতায় বসে নিজে খাচ্ছে না। দেশের মানুষকে খাবার দিচ্ছে। সেদিন (১০ ডিসেম্বর) বিএনপি এল আন্দোলন করে সরকার উৎখাত করবে বলে। সরকার উৎখাত করা এতই সোজা?
আজ রোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন সরকার উৎখাতে আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পারে। আইয়ুব খানকে আমরা উৎখাত করেছি। ইয়াহিয়াকে যুদ্ধে পরাজিত করে উৎখাত করেছি। জিয়াউর রহমানকে হাতে পাই নাই। কিন্তু জিয়া যখনই যেখানে গেছেন, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। এরশাদকে উৎখাত করেছি। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটচুরির নির্বাচন করেছিলেন। তাকে উৎখাত করা হয়েছে। আবার ২০০৬ সালে ভোট চুরি করেছিলেন। এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিকে ভোট করতে চেয়েছিলেন। সেটাও বাতিল হয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত এবং বাম ও ডানপন্থী দলগুলোর জোট গণতন্ত্র মঞ্চের যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট করল এবং তাদের সঙ্গে আরও কিছু পার্টি দাঁড়াল। আরেকটি জিনিস খুব অবাক লাগে, কোথায় বামপন্থী, আর কোথায় ডানপন্থী। যারা বামপন্থী, তারা মনে হয় ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে।
তিনি বলেন, সেই জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে আমাদের বাম, অতি বাম, স্বল্প বাম, তীব্র বাম, কঠিন বাম সব যেন এক হয়ে এক প্ল্যাটফর্মে। ওই যে বলেছিল না, সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ। সেই কথায় মনে হয়। কোথায় তাদের আদর্শ? কোথায় তাদের নীতি? আর কোথায় কী?
পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছিলেন। সেই দলে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে হবে? এদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের সমর্থন করে কীভাবে? এটা ভাবলে আমার অবাক লাগে। এরা তো ইতিহাস জানেন।
পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ক্ষমতায় আসাটা খুব সহজ ছিল না। এত সহজে আসতে দেয়নি। জনগণ আমাদের সমর্থন করে। ভোট আমাদের আছে। কিন্তু নির্বাচনে বারবার কারচুপি করে হোক, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে হোক আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, চক্রান্ত করে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। তার ভোগান্তি এ দেশের মানুষের হয়েছে। আবার যেন সেই ভোগান্তিতে না পড়তে হয়, সে বিষয়ে মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। আর ওপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তো আছেন। কাজেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দয়া এবং মানুষের শক্তি নিয়েই কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের শক্তি বড় শক্তি। আর বিশ্বাস। মানুষের শক্তি নিয়েই আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এসেছে।
দেশকে ধ্বংস করতে খুনি ও যুদ্ধাপরাধীরা যেন আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, বিজয় আমরা এনেছি। এই বিজয়ের পতাকা সমুন্নত করেই চলতে হবে। আবারও যেন ওই খুনি ও যুদ্ধাপরাধী- যাদের আমরা বিচার করেছি, তারা ক্ষমতায় এসে এই দেশকে ধ্বংস করতে না পারে। সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানানো বিদেশিদের সম্মাননা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমাদের জন্য এতটুকু কেউ করলে আমরা সেটা স্বীকার করি। আবার কেউ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে প্রতিবাদও করতে জানি।
বিদ্যুতের দাম উৎপাদন খরচ অনুযায়ী দিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। সামনে আর দিতে পারব না। আমাদের যেটা খরচ সেটা কিন্তু দিতে হবে। তাহলে দেব, না হলে দেব না। তবে হ্যাঁ ব্যবহার কমিয়ে ও সাশ্রয়ী হয়ে বিদ্যুতের খরচ কমানো যায়। দেশের মানুষকে সেটাই করতে বলব।
করোনা সংকট ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অনেক জিনিস আমদানি করতে হয়। এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। সেজন্য জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের মূল্য বেড়ে গেছে। সেজন্য আমাদের কিছুটা সাশ্রয়ী হতে হচ্ছে। সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেব বলেছিলাম, সে কথা তো রেখেছি। এখন বিশ্বে দাম বাড়লে আমাদের কী করার আছে?
২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সেই বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হবে। আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতে আমরা ই-গভর্নেন্স ও ই-বিজনেস- এভাবে করব। এমনকি স্বাস্থ্যসেবা থেকে শিক্ষা সব কিছুতেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সেভাবে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সিমিন হোসেন রিমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।