| শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট | ২২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইটভাঙ্গা মজুরের ঘুম
আকিব শিকদার
বৈশাখের সমাপ্তিতে জৈষ্ঠ্যের শুরু। যতদূর চোখ যায়
মেঘহীন নীল আকাশ, চোখ ধাধানো খাঁ খাঁ রোদ্দুরে
দেবদারু বৃক্ষের শিশু দিয়েছে এলিয়ে
সবুজ ছাতার মতো শাখা, ছায়াতলে দূর্বা-লতার হরিৎ গালিচা।
ইটভাঙ্গা মজুর-পথ সাফ করতে এসে
দেহখানি ভরে গেল অবসাদে, চোখ জোড়া বুজে এলো ঘুমে-
হয়তো শুয়ে ছিলো দেবদারু তটে-অমনি নিদ্রা মগন।
বুকে তার দিয়েছে সিথান
একজন শ্যাম বরণ নারী-তারই মতো শ্রমজীবী, ক্লান্ত ঘর্মাক্ত
হয়তো সম্পর্কে তার চিরজনমের সহধর্মিনী।
পুরুষের মাথার নিচে বালিশ টুকরো চটের
গায়ে জামা নেই, কোমরে বাধা লুঙ্গি হাটুর একটু নিচে এসে
থেমে গেছে ভাঁজে ভাঁজে।
শুষ্ক তামাটে মুখে ঘাম আর
দরিদ্রতার ছাপ। নারীটির সূতি শাড়ি স্থানে স্থানে ছেড়া
লাল রঙা ঘাগড়ার রং গেছে চটে, সবুজাভ ব্লাউজে লেগে আছে
ইট সুরকির রেণু, গায়ের কাপড় বাতাসের তাড়নায়
ঘাসে লুটোপুটি। পড়ে আছে একজোড়া হাতুড়ি, চামড়ার দস্তানা।
দেখে যেন মনে হয় রুদ্রকরোজ্জ্বল রাত
নেমে এলো ধরণীতে। চারিধার নিঝ্ঝুম, নিশ্বাস দীর্ঘ করে
মর্মে মর্মে ভাবি-এই ঘুম যতো সহজে আসতে পারে নেমে
দেবদারু তলে ইটভাঙ্গা মজুরের চোখের পাতায়, ততো সহজে
কেন পারে না পৌঁছোতে
ঐ সব অট্টালিকার মখমল, কারুময় খাট, সোফার ফোমে।