| রবিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট | ৪২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঋতু বৈচিত্র
আতাউর রহমান নোমান
আমার দেশে ছয়টি ঋতু ছয়টি ধাপে আসে
ছয় ধরনের ছয়টি ঋতু ছয় রকমের হাসে
বারো মাসের ছয়টি ঋতু আমার দেশের শোভা
ফুলে ফলে জলে স্থলে খুব যে মনোলোভা ।
ছয় ঋতুতে প্রকৃতি সাজ হরেক রকম সাজে
নানান রকম ফুল পাখিদের নানান রকম কাজে
একেক ঋতু একেক রঙে রূপের বদল করে
নানান রূপে নানান ঢঙে দুঃখ সুখের তরে।
ঋতু চক্রে গ্রীষ্ম প্রথম জখম করে বুকে
বৈশাখী ঝড় উঠে যখন কাঁপে রে মুল্লুকে
অপর দিকে ফলের রাজা গ্রীষ্ম ঋতু দেশে
মধু রসের আম কাঁঠাল আর রয় নানা ফল ঠেসে।
বুরো ধানে বুজাই করা নৌকা হেলে দুলে
ভিড়তে দেখি গ্রীষ্ম কালে হাওর নদী কূলে
কিষাণ মনে সুখের পরশ নতুন ধানের হাসি
সকল ঘাটে সকল বাটে সকল দুঃখ নাশি।
গ্রীষ্ম পরে বর্ষার উদয় বৃষ্টি বাদল নিয়ে
জল থৈ থৈ নদী নালা ব্যাঙের নাকি বিয়ে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর সুরের তালে ব্যাঙের নাচন জলে
শাপলা শালুক জল জলধির প্রাণের সুধায় ঢলে।
নানান রকম মাছের দেখা বর্ষা কালে মিলে
জলের পাখি মাছ ধরে খুব আনন্দে খায় গিলে
সুজন মাঝি ভাটির গানে আনন্দে সুর তুলে
ঘোর প্লাবনে কত যে প্রাণ ঢেউয়ের দোলায় দুলে।
কাশফুলের ওই কোমল পরশ শরতকে লয় ডাকি
শুভ্র শরত তার তুলিতে যায় বুঝি সব আঁকি
প্রিয়াঙ্কা রূপ শরত ঋতু সফেদ মেঘের ভাঁজে
কল্পনা রং প্রেম প্রণয়ের সকাল দুপুর সাঁঝে।
ভাদ্র মাসে তালের পিঠা মিঠা খেজুর রসে
পাড়ায় পাড়ায় পড়ে সাড়া নবান্ন পরশে
হরেক রকম পিঠা পুলি শরত ঋতুর প্রথায়
খেতে বসে শিলক ছুড়েন দাদী কথায় কথায়।
হেমন্তকাল আসন গাড়ে অঘ্রাণী ঘ্রাণ মেখে
প্রফুল্লতায় যায় ভরে মন কিষাণী সুখ দেখে
নতুন ধানের নতুন হাসি নতুন কনের মুখে
কার্তিকে যার দুলছিল কেশ মাঠে পরম সুখে।
হাল্কা শীতল হাওয়া দোলে হেমন্ত কোল জুড়ে
অতিথ পাখির নিমন্ত্রণের বার্তা নিয়ে উড়ে
শীতের আগাম খবরটা দেয় খুব বেশি নয় দূরে
এমনই করে হেমন্ত যায় একটি বছর ঘুরে।
হাড় কাঁপুনে ঠান্ডা হাওয়ায় যার পরিচয় জানি
গায় জড়িয়ে লেপ কাঁথা দেয় ঠান্ডা শীতল পানি
দুধ সাদা ওই কুজ্ঝটিকায় সকাল দুপুর সাঁঝে
অনুরাগের সূর্য মামা লুকায় যেনো লাজে।
শীতের ঋতু ভিন্ন ধারায় আসে যে তল্লাটে
তরতাজা সব ফল ফলাদির চমক নিয়ে মাঠে
পৌষে মাঘে তার বিচরণ মাস দুয়েকের রাজা
তার ভয়ে সব কাঁপে তখন দেয় যে কঠিন সাজা।
সবার শেষে পুষ্প মুরিদ বসন্ত রাজ এলে
ফুলের কলি ভ্রমর অলি সবাই পাখনা মেলে
ফুলে ফুলে ডালে ডালে রঙের ছড়াছড়ি
এ যেনো এক অন্য ভুবন সবাই প্রেমে পড়ি।
পাখ পাখালির কন্ঠে নতুন সুরের ছোঁয়া লাগে
ঋতুর রাজা বসন্তের ওই গভীর অনুরাগে
পল্লবিত বন বনানী মুচকি হেসে বলে
যেওনা ভাই বসন্ত রাজ আর কোনদিন চলে।
এমনি করে দু’মাস ধরে ঋতুর আনাগোনা
নিত্য নতুন দিনগুলোতে নতুন স্বপন বোনা
চলতে থাকে বাংলাদেশের অরূপ রূপের চিত্তে
বিধান মেনে বিধাতার ওই ভৌগলিকের বৃত্তে।