শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমনের লক্ষ্যমাত্রা শঙ্কায়

সারাদেশ ডেস্ক   |   বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহিত ছবি

বেড়েছে জ্বালানি তেল ও সারের দাম। বর্ষায় মেলেনি বৃষ্টির দেখা। ফলে চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সুযোগ বুঝে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সেচ পাম্পের মালিকরা পানির দাম বাড়িয়েছেন দ্বিগুণ। এতে আমন চাষ নিয়ে শঙ্কায় হাজার হাজার কৃষক। একদিকে পানি, সার ও কীটনাশকের চড়া দাম, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।
ইতোমধ্যে মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও হরিণাকুণ্ডুতে গত রোববার পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ কৃষক আমন আবাদ করেছেন। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, অনাবৃষ্টির কারণে আবাদ শুরু করতে দেরি হলেও অর্জিত হবে লক্ষ্যমাত্রা। তাঁদের দাবি, অনাবৃষ্টি ও মাঠে উৎপাদিত পাট একটু দেরিতে কাটার ফলে সঠিক সময়ে আমনের আবাদ শুরু হয়নি। তবে এখন বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক পানি পাচ্ছেন। পাটও কৃষকের ঘরে উঠেছে। এখন পুরোদমে আমনের আবাদ শুরু হয়েছে।
কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৬ হাজার ৪ হেক্টর। ৩৮ হাজার ১০০ কৃষক পরিবার এসব জমিতে ধান, পাটসহ নানা ফসলের আবাদ করেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি। অনাবাদি রয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমি। প্রায় ২১ হাজার কৃষক এ আবাদ করেছেন। লক্ষ্যমাত্রার হিসাবে তা ৬৫ শতাংশ। গত ১৬ জুলাই থেকে এই মৌসুম শুরু হয়েছে।

উপজেলার শিংগা গ্রামের আব্দুল বারি নামে এক কৃষক বলেন, তিনি এই মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করবেন। এর মধ্যে দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছেন। বাকি জমিতে এখনও আবাদ শুরু করতে পারেননি। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের পানিতে আমনের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির দেখা মেলেনি। পানির অভাবে চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারেননি। সেচ খালে পানিও ছাড়েনি কর্তৃপক্ষ। বেড়েছে সার ও কীটনাশকের দাম। সেচ পাম্প মালিকরা পানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নিতেন। এবার তিন থেকে চার হাজার টাকা চাইছেন। এত টাকা ব্যয় করে চাষ করলে উৎপাদন খরচও উঠবে না বলে তাঁর আশঙ্কা।

আব্দুল কুদ্দুস নামে দৌলতপুর এলাকার আরেক কৃষক বলেন, প্রতি বছর আট বিঘা জমিতে তিনি আমনের চাষ করেন। এই মৌসুমে মঙ্গলবার পর্যন্ত পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন। মাঝে কয়েক দিন সারের সংকট ছিল। জমি প্রস্তুত করতে পানিও পাচ্ছিলেন না। তাই এখনও চাষ শুরু করতে পারেননি। এর মধ্যে এক বিঘা জমিতে পাট ছিল। তা কেটে ঘরে তুলতে একটু দেরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাম্প মালিকরাও পানির দাম নিচ্ছেন দ্বিগুণ। তাই এই মৌসুমে আমন চাষ করবেন কিনা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
লোকসানের ভয়ে বাকি জমিতে আবাদ করবেন কিনা তা নিয়ে ভাবছেন কুদ্দুস।
জমির উদ্দিন নামে এক সেচ পাম্প মালিক বলেন, প্রতি লিটারে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৪ টাকা। তাই তিনি পানির দাম বাড়িয়েছেন।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ হাসান এ বিষয়ে বলেন, অনাবৃষ্টি আর দেরিতে ক্ষেতের পাট কাটায় সঠিক সময়ে আমনের চাষাবাদ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে কৃষকদের পাট ঘরে উঠেছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষও সেচ খালগুলোতে পানি দিচ্ছে।
উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে তিনি বলেন, দেরিতে আমনের আবাদ শুরু হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের আমন আবাদের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office