অনলাইন ডেস্ক: | শুক্রবার, ০৮ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট | ১১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দনবাস অঞ্চলে রাশিয়া হামলা জোরদার করছে ছবি: এএফপি
পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনী তার আক্রমণ জোরদার করছে বলে মনে করা হচ্ছে। দনবাস অঞ্চলের শহরগুলোতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর প্রচণ্ড হামলা চালায় রুশ বাহিনী।
কিয়েভ থেকে বিবিসির জেরেমি বোয়েন তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসল ঘটনা হয়তো এবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ঘটতে যাচ্ছে। অঞ্চলটি ঘিরে রুশ বাহিনী অনেক বেশি কার্যকরভাবে সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক শহরের একটি রেলস্টেশনে আজ শুক্রবার রকেট হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত ১০০ জন। বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নিতে রেলস্টেশনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোরোদিয়ানকায় দুটি বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৬টি লাশ উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল এমনটাই দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বোরোদিয়ানকার বেসামরিক এলাকাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মস্কো। মস্কোর এই ঘোষণাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্যানবেরা ও ওয়েলিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৮ এপ্রিল ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান ৪৪ তম দিনে গড়িয়েছে। চলমান ইউক্রেন সংকট নিয়ে পাঠকের মনে আছে নানা প্রশ্ন। বিবিসি অবলম্বনে সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা রইল এ প্রতিবেদনে।
সংকটের শুরু কবে
সাম্প্রতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিলে চলমান সংকটের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। তবে এ সংকটের মূলে যেতে ফিরে তাকাতে হবে সোভিয়েত আমলে। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল ইউক্রেন।
ইউক্রেনে দুটি রাজনৈতিক ধারা প্রবল। একটি ধারা পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আগ্রহী। অপর ধারাটি রুশপন্থী। তারা রাশিয়ার বলয়ে থাকতে চায়।
ইউক্রেনের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ রুশভাষী। তারা জাতিগতভাবেও রুশ। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক-সামাজিক ঘনিষ্ঠতা আছে।
বিক্ষোভের মুখে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের পতন হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালান।
ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। তখন পুতিন চাপ বাড়ান। চাপে পড়ে ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে ইউক্রেনে তাঁর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়।
ইয়ানুকোভিচের পর যাঁরা ইউক্রেনের ক্ষমতায় আসেন, তাঁরা ইইউপন্থী বলে পরিচিত। তাঁদের নানা পদক্ষেপে পুতিন ক্ষুব্ধ হন।
ইয়ানুকোভিচের পতনের পর পূর্ব ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয় রাশিয়া।