| মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
সুশাসনের ঘাটতির মধ্যেই প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ। গত পাঁচ দশকে বিভিন্ন সরকারের সময়ে জবাবদিহির অভাব ছিল। তবে এর মধ্যেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক অগ্রগতি আশাতীত। সমপর্যায়ের দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের এই অর্জন তুলনামূলক কম খরচেই এসেছে। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং নাগরিক উদ্যোগ এই উন্নয়নের পেছনে অবদান রেখেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না।
সোমবার বাংলাদেশের উন্নয়নে রাজনৈতিক অর্থনীতিবিষয়ক গ্রন্থ ‘দ্য অডস রিভিজিটেড’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ রচিত গ্রন্থটি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানীর হোটেল আমারিতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ছাড়াও এতে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল। পিআরআইর চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, এ দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এবং সাফল্য একক কোনো অবদানে আসেনি। এর মধ্যে অনেক কিছুর সমন্বয় আছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র চাষি, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী শ্রমিক সবারই অবদান আছে। তবে এ উন্নয়নের পেছনে সরকারের অবদানের কথা অনেকেই বলেন না।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কিংবা সামরিক শাসন যে সরকারই ক্ষমতায় ছিল, তাদের জবাবদিহিতার অভাব ছিল। তবে দারিদ্র্য দূর করার ক্ষেত্রে ছিল এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। নাগরিক সক্রিয়তাও ছিল এর পেছনে। এসবের সঙ্গে এনজিওর পক্ষ থেকে ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহযোগিতা ছিল। কম মজুরির স্বল্পশিক্ষিত শ্রমশক্তিও অবদান রয়েছে। তবে আগামীতে উচ্চহারের প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাধারণ এসব কৌশল এবং আর্থিক খাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু এই কৌশলগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না, যদি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত না হয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। বাড়াতে হবে অর্থনৈতিক কূটনীতি। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
গত ৫০ বছরে নারী শিক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. মসিউর রহমান বলেন। তিনি বলেন. অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি এর প্রভাব পড়েছে। গ্রামে এখন অকৃষি কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এতে কৃষি মজুরের সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের মজুরি বেড়েছে। এক সময় উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে খাদ্য উৎপাদনে ভর্তুকি বন্ধের শর্ত থাকত বলে জানান তিনি।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তিন ধরনের উদ্যোগ উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। তা হচ্ছে- সমন্বিত, ব্যক্তিগত ও বহুপক্ষীয় কার্যক্রম। এখানে ঘাটতি আছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের কাঠামো এবং বাস্তবতার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। হাসপাতাল হচ্ছে, সেবা হচ্ছে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সেবার মান কমছে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির পেছনে উন্নয়ন সহযোগীদের কথা খুব একটা বলা হয় না। ৬০-এর দশক থেকে এ দেশের উন্নয়নে তারা সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে তাদের বড় ভূমিকা আছে। তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, কৃষিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চলক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ড. কে এ এস মুর্শিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) চায়নি। এক পর্যায়ে চাওয়া শুরু করল। কিন্তু এফডিআই আশানুরূপ আসছে না। কেন আসে না, তা ভেবে দেখা দরকার। এফডিআইর প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ। এগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল আহম্মেদ চৌধুরী, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদসহ বিশিষ্টজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।